ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিশ্বব্যাপী আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস Logo মাসের পরের অংশে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ কালবৈশাখী আঘাত আনতে পারে Logo পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২,০২৮ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার Logo গ্রীষ্মের দাবদাহে আরাম দেবে ঠান্ডা ডাব-কফির শেক Logo দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো আবার সচল হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে Logo ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-এ আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন Logo প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলছে একনেকের বৈঠক Logo উচ্ছেদের কিছুদিন পরই ফের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত, থামছে না হকারদের Logo সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

উচ্ছেদের কিছুদিন পরই ফের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত, থামছে না হকারদের

ঢাকা শহরের ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সেই উদ্যোগের সুফল মেলছে না; ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঘটা করে অভিযান চালিয়ে দখলদারদের সরিয়ে দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও একই জায়গায় দোকান বসে যায় এবং ফলত রাজধানীর যানজট আরও তীব্র হচ্ছে, সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। জানা যায়, বিগত মাসের প্রথমদিন থেকে জোনভিত্তিক সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএমপি, গত ১ এপ্রিল সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামেন, ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড, গ্রিনরোড, আনন্দ সিনেমা হল, পান্থপথ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সীমানা নির্ধারণ করে অভিযান চালানো হয়; প্রথমদিনেই দখলকারীদের সতর্ক করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত জায়গা দখলের অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং জরিমানাও আদায় করা হয়, তবু সেই অভিযান শেষ হবার পরই দেখা যায় ফুটপাত ও সড়ক জুড়ে সারি সারি দোকান বসে গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জ, চায়ের দোকান, পোশাক বিক্রি- সবই ফুটপাতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পথচারীরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হল এলাকায় দেখা গেছে, সকাল থেকেই ব্যবসায়ীরা এসে দোকান খুলে বসেছন; ক্রেতাদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো; ফলে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং যানবাহনও আটকে পড়ছে। কারওয়ান বাজার ও বসুন্ধরা শপিংমল এলাকায়ও একই চিত্র- যদিও মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় ভোগান্তি কম দেখা গেলেও ফুটপাত দখল অব্যাহত। তেজগাঁও ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার অনীশ কীর্ত্তনীয়ার কথায় উচ্ছেদ অভিযান সেন্ট্রালি চালানো হয়েছে এবং যারা আবার বসছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে; রেগুলার মনিটরিং ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সকালের ফলো‑আপ করা হচ্ছে এবং কমিশনারের নির্দেশে আবারও মাঠে নামা হবে- কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতার পরও তদারকি নেই বললেই চলে, ফলে দখলদাররা সুযোগ পেলেই ফিরে আসে। আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনের সড়কে গত ৫ এপ্রিল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ৭ এপ্রিল সকালে পাসপোর্ট অফিসের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের বিপরীত পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে একাধিক চায়ের দোকান; ফুটপাত ব্যবহার করে হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই এবং সড়কের দুই পাশ ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি দাঁড়ানো থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হয়। দোকানিরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে সবাইকে চলে যেতে বলেছে কিন্তু উচ্ছেদ করেনি; তারা প্রশ্ন তুলছেন, সরকার যদি বসার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাহলে তারা কোথায় যাবে। এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, সরকার আমাদের বসার জন্য একটা ব্যবস্থা না করে দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ অভিযান করছে। আমরা কোথায় যাবো? আমাদের দিকটাও তো সরকারকে দেখতে হবে। শেরে বাংলা নগর ট্রাফিক জোনের এসি রাকিব হাসান জানান, তারা সকাল‑বিকেল ফলো‑আপ করছেন এবং নতুন করে বসলে সঙ্গে সঙ্গে তুলে দিচ্ছেন; থানার মোবাইল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হচ্ছে- তবু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সকালে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, বিকেলে বা পরের দিন আবার বসছে, কারণ দখলদাররা সুযোগসন্ধানী এবং তাদের পেছনে প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠী বা স্থানীয় সমর্থন থাকলে তারা দ্রুত ফিরে আসে। এই পুনরাবৃত্তি শুধু ফুটপাত দখলকারীদেরই নয়, শহরের সার্বিক চলাচল ও অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে; সংকীর্ণ সড়কে দোকান বসলে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, জরুরি সেবা ও পরিবহন ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে। সমস্যার মূলে রয়েছে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক অভিযান নয়- এটি প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, স্থানীয় পর্যায়ে তদারকির অনিয়ম, রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয়প্রদান এবং বিকল্প বসবাস বা ব্যবসার ব্যবস্থা না থাকা; অনেক হকারই বলছে তারা জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসে, ভাড়া বা দোকান খোলার সামর্থ্য নেই, তাই উচ্ছেদ হলে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত- অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, নিয়ম ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত মনিটরিং ও জরিমানা কার্যকর করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসইভাবে ফুটপাত মুক্ত রাখতে হলে প্রথমত প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতে হবে- মিউনিসিপ্যালিটি, ট্রাফিক বিভাগ, থানা ও স্থানীয় কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করে নির্দিষ্ট জোনে নিয়মিত ফলো‑আপ ও রাউন্ড‑দ্য‑ক্লক টহল চালাবে, দ্বিতীয়ত বিকল্প বসার ব্যবস্থা বা হকার মার্কেট তৈরি করে তাদেরকে বৈধভাবে স্থানান্তর করা প্রয়োজন যাতে তারা জীবিকা চালাতে পারে এবং ফুটপাত মুক্ত থাকে, তৃতীয়ত স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি মনিটরিং ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে- বসতবাড়ি, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অংশগ্রহণে একটি সতর্কতা ও রিপোর্টিং মেকানিজম থাকলে পুনরায় দখল কম হবে, চতুর্থত জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা কেবল শাস্তিমূলক নয়, তা যেন পুনর্বাসনমূলক ও বিকল্প প্রদানমূলক হয়- উচ্ছেদ করে শুধু সরিয়ে ফেলা নয়, তাদেরকে কোথায় বসতে হবে, কীভাবে লাইসেন্স পাবে, কোন সময় ও কোন জায়গায় ব্যবসা করতে পারবে- এসব স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার। এছাড়া রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; কারণ অনেক সময়ই দখলদাররা স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ফিরে আসে এবং প্রশাসনের উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দেয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মনিটরিং বাড়ানো যেতে পারে- সিসিটিভি, হটলাইন, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত রিপোর্টিং ও রেসপন্স সিস্টেম থাকলে উচ্ছেদ কার্যকরভাবে বজায় রাখা সহজ হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত ও সড়ককে কেবল চলাচলের জায়গা হিসেবে দেখা উচিত; সেখানে ব্যবসা করার জন্য নির্দিষ্ট বাজার বা হকার জোন নির্ধারণ করে লাইসেন্সিং ও সাশ্রয়ী ভাড়া ব্যবস্থা করলে ফুটপাত দখল কমে আসবে। শেষ পর্যন্ত, ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান যদি কেবল একদিনের শো হয়ে থেকে যায় এবং পরের দিন আবার একই চিত্র দেখা যায়, তাহলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে এবং শহরের চলাচল ও নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে ব্যাহত থাকবে; তাই প্রশাসনকে নিয়মিত, সমন্বিত ও মানবিক নীতিতে কাজ করে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বব্যাপী আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

উচ্ছেদের কিছুদিন পরই ফের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত, থামছে না হকারদের

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

ঢাকা শহরের ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সেই উদ্যোগের সুফল মেলছে না; ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঘটা করে অভিযান চালিয়ে দখলদারদের সরিয়ে দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও একই জায়গায় দোকান বসে যায় এবং ফলত রাজধানীর যানজট আরও তীব্র হচ্ছে, সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। জানা যায়, বিগত মাসের প্রথমদিন থেকে জোনভিত্তিক সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএমপি, গত ১ এপ্রিল সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামেন, ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড, গ্রিনরোড, আনন্দ সিনেমা হল, পান্থপথ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সীমানা নির্ধারণ করে অভিযান চালানো হয়; প্রথমদিনেই দখলকারীদের সতর্ক করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত জায়গা দখলের অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং জরিমানাও আদায় করা হয়, তবু সেই অভিযান শেষ হবার পরই দেখা যায় ফুটপাত ও সড়ক জুড়ে সারি সারি দোকান বসে গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জ, চায়ের দোকান, পোশাক বিক্রি- সবই ফুটপাতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পথচারীরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হল এলাকায় দেখা গেছে, সকাল থেকেই ব্যবসায়ীরা এসে দোকান খুলে বসেছন; ক্রেতাদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো; ফলে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং যানবাহনও আটকে পড়ছে। কারওয়ান বাজার ও বসুন্ধরা শপিংমল এলাকায়ও একই চিত্র- যদিও মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় ভোগান্তি কম দেখা গেলেও ফুটপাত দখল অব্যাহত। তেজগাঁও ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার অনীশ কীর্ত্তনীয়ার কথায় উচ্ছেদ অভিযান সেন্ট্রালি চালানো হয়েছে এবং যারা আবার বসছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে; রেগুলার মনিটরিং ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সকালের ফলো‑আপ করা হচ্ছে এবং কমিশনারের নির্দেশে আবারও মাঠে নামা হবে- কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতার পরও তদারকি নেই বললেই চলে, ফলে দখলদাররা সুযোগ পেলেই ফিরে আসে। আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনের সড়কে গত ৫ এপ্রিল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ৭ এপ্রিল সকালে পাসপোর্ট অফিসের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের বিপরীত পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে একাধিক চায়ের দোকান; ফুটপাত ব্যবহার করে হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই এবং সড়কের দুই পাশ ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি দাঁড়ানো থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হয়। দোকানিরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে সবাইকে চলে যেতে বলেছে কিন্তু উচ্ছেদ করেনি; তারা প্রশ্ন তুলছেন, সরকার যদি বসার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাহলে তারা কোথায় যাবে। এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, সরকার আমাদের বসার জন্য একটা ব্যবস্থা না করে দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ অভিযান করছে। আমরা কোথায় যাবো? আমাদের দিকটাও তো সরকারকে দেখতে হবে। শেরে বাংলা নগর ট্রাফিক জোনের এসি রাকিব হাসান জানান, তারা সকাল‑বিকেল ফলো‑আপ করছেন এবং নতুন করে বসলে সঙ্গে সঙ্গে তুলে দিচ্ছেন; থানার মোবাইল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হচ্ছে- তবু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সকালে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, বিকেলে বা পরের দিন আবার বসছে, কারণ দখলদাররা সুযোগসন্ধানী এবং তাদের পেছনে প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠী বা স্থানীয় সমর্থন থাকলে তারা দ্রুত ফিরে আসে। এই পুনরাবৃত্তি শুধু ফুটপাত দখলকারীদেরই নয়, শহরের সার্বিক চলাচল ও অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে; সংকীর্ণ সড়কে দোকান বসলে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, জরুরি সেবা ও পরিবহন ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে। সমস্যার মূলে রয়েছে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক অভিযান নয়- এটি প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, স্থানীয় পর্যায়ে তদারকির অনিয়ম, রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয়প্রদান এবং বিকল্প বসবাস বা ব্যবসার ব্যবস্থা না থাকা; অনেক হকারই বলছে তারা জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসে, ভাড়া বা দোকান খোলার সামর্থ্য নেই, তাই উচ্ছেদ হলে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত- অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, নিয়ম ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত মনিটরিং ও জরিমানা কার্যকর করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসইভাবে ফুটপাত মুক্ত রাখতে হলে প্রথমত প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতে হবে- মিউনিসিপ্যালিটি, ট্রাফিক বিভাগ, থানা ও স্থানীয় কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করে নির্দিষ্ট জোনে নিয়মিত ফলো‑আপ ও রাউন্ড‑দ্য‑ক্লক টহল চালাবে, দ্বিতীয়ত বিকল্প বসার ব্যবস্থা বা হকার মার্কেট তৈরি করে তাদেরকে বৈধভাবে স্থানান্তর করা প্রয়োজন যাতে তারা জীবিকা চালাতে পারে এবং ফুটপাত মুক্ত থাকে, তৃতীয়ত স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি মনিটরিং ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে- বসতবাড়ি, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অংশগ্রহণে একটি সতর্কতা ও রিপোর্টিং মেকানিজম থাকলে পুনরায় দখল কম হবে, চতুর্থত জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা কেবল শাস্তিমূলক নয়, তা যেন পুনর্বাসনমূলক ও বিকল্প প্রদানমূলক হয়- উচ্ছেদ করে শুধু সরিয়ে ফেলা নয়, তাদেরকে কোথায় বসতে হবে, কীভাবে লাইসেন্স পাবে, কোন সময় ও কোন জায়গায় ব্যবসা করতে পারবে- এসব স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার। এছাড়া রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; কারণ অনেক সময়ই দখলদাররা স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ফিরে আসে এবং প্রশাসনের উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দেয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মনিটরিং বাড়ানো যেতে পারে- সিসিটিভি, হটলাইন, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত রিপোর্টিং ও রেসপন্স সিস্টেম থাকলে উচ্ছেদ কার্যকরভাবে বজায় রাখা সহজ হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত ও সড়ককে কেবল চলাচলের জায়গা হিসেবে দেখা উচিত; সেখানে ব্যবসা করার জন্য নির্দিষ্ট বাজার বা হকার জোন নির্ধারণ করে লাইসেন্সিং ও সাশ্রয়ী ভাড়া ব্যবস্থা করলে ফুটপাত দখল কমে আসবে। শেষ পর্যন্ত, ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান যদি কেবল একদিনের শো হয়ে থেকে যায় এবং পরের দিন আবার একই চিত্র দেখা যায়, তাহলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে এবং শহরের চলাচল ও নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে ব্যাহত থাকবে; তাই প্রশাসনকে নিয়মিত, সমন্বিত ও মানবিক নীতিতে কাজ করে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।