ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিশ্বব্যাপী আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস Logo মাসের পরের অংশে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ কালবৈশাখী আঘাত আনতে পারে Logo পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২,০২৮ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার Logo গ্রীষ্মের দাবদাহে আরাম দেবে ঠান্ডা ডাব-কফির শেক Logo দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো আবার সচল হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে Logo ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-এ আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন Logo প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলছে একনেকের বৈঠক Logo উচ্ছেদের কিছুদিন পরই ফের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত, থামছে না হকারদের Logo সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

গ্রীষ্মের দাবদাহে আরাম দেবে ঠান্ডা ডাব-কফির শেক

গরমের দিনে সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফিরে ঠান্ডা কোনো পানীয়ের কথা মনে পড়াটাই স্বাভাবিক। এক গ্লাস শীতল পানীয় যেন মুহূর্তেই শরীর ও মনকে কিছুটা শান্ত করে দেয়। কেউ লেবুর শরবত খান, কেউ ডাবের পানি, আবার কেউ লবণ-চিনির পানীয়েই স্বস্তি খুঁজে পান। তবে কফিপ্রেমীদের জন্য বিষয়টা একটু কঠিন। কারণ বছরের সব সময় কফি ছাড়া দিন না চললেও প্রচণ্ড গরমে অনেকেই ভাবেন-কফি কি শরীরকে আরও গরম করে দেবে? এই সমস্যারই অভিনব সমাধান এখন ‘টেন্ডার কোকোনাট কফি’। নাম শুনে অবাক লাগলেও এটি আসলে ডাবের পানি ও কফির এক ভিন্নধর্মী সংমিশ্রণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পানীয়। প্রথম চুমুকে স্বাদ একটু অচেনা লাগতে পারে, তবে অনেকেই বলছেন, একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটি বেশ রিফ্রেশিং লাগে। খাদ্যবিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এমন স্বাদকে বলা হয় অ্যাকোয়ার্ড টেস্ট। অর্থাৎ শুরুতে যেটি নতুন বা অদ্ভুত মনে হয়, ধীরে ধীরে সেটিই হয়ে উঠতে পারে প্রিয় স্বাদ।

 

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই পানীয়?

বর্তমান সময়ে মানুষ শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যকর বিকল্পের খোঁজেও নতুন পানীয় বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে যারা কফি দুধ-চিনি দিয়ে খেতে পছন্দ করেন, তাদের অনেকেই এখন ডাব-কফিকে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন। কালো কফির কড়া স্বাদের সঙ্গে যখন ডাবের প্রাকৃতিক মিষ্টতা মিশে যায়, তখন পানীয়টির স্বাদ হয়ে ওঠে অনেক বেশি মোলায়েম ও সতেজ। পাশাপাশি এতে যোগ হয় ডাবের পানির পুষ্টিগুণও। গরমের দিনে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়। ডাবের পানি সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে কফিতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমিয়ে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে এই দুই উপাদানের মিশ্রণ গরমে অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে জনপ্রিয়।

 

উপকরণ

*ডাবের পানি ১ কাপ

*ডাবের নরম মালাই ২ টেবিল চামচ

*কফি ১ চা চামচ

*দুধ আধা কাপ

*মধু দেড় চামচ

*বরফ কুঁচি বা আইস কিউব প্রয়োজনমতো

 

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে একটি কচি ডাব থেকে পানি আলাদা করে নিন। এরপর ডাবের ভেতরের নরম মালাই চামচ দিয়ে তুলে ব্লেন্ডারে দিন। এর সঙ্গে ডাবের পানি, দুধ ও মধু যোগ করুন। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন, যাতে মিশ্রণটি মসৃণ ও ক্রিমি হয়। অন্যদিকে অল্প গরম পানিতে কফি গুলে নিন। কফি ঠান্ডা হয়ে গেলে সেটি ব্লেন্ড করা ডাবের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এরপর বরফ কুঁচি বা আইস কিউব দিয়ে আবার হালকা ব্লেন্ড করুন। তৈরি হয়ে গেল ঠান্ডা ও রিফ্রেশিং টেন্ডার কোকোনাট কফি।

 

শরীরের জন্য কেন ভালো

গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং পানির ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি। ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। এছাড়া এতে থাকা অ্যামিলেসের মতো বায়ো-অ্যাকটিভ এনজাইম হজমশক্তিও ভালো রাখতে সাহায্য করে। কফির সঙ্গে ডাবের পানি মিশে গেলে পানীয়টি খুব ভারীও লাগে না। ফলে যারা কফি ছাড়তে চান না কিন্তু গরমে কিছুটা হালকা ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি পানীয়।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা কফির পরিমাণ কমিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। একঘেয়ে শরবত বা সফট ড্রিংকের বদলে গরমে ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে চাইলে এই ফিউশন ড্রিংক একবার চেষ্টা করতেই পারেন। ডাবের সতেজতা আর কফির স্বাদ মিলে এটি হতে পারে গরমের দিনের নতুন প্রিয় পানীয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বব্যাপী আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

গ্রীষ্মের দাবদাহে আরাম দেবে ঠান্ডা ডাব-কফির শেক

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

গরমের দিনে সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফিরে ঠান্ডা কোনো পানীয়ের কথা মনে পড়াটাই স্বাভাবিক। এক গ্লাস শীতল পানীয় যেন মুহূর্তেই শরীর ও মনকে কিছুটা শান্ত করে দেয়। কেউ লেবুর শরবত খান, কেউ ডাবের পানি, আবার কেউ লবণ-চিনির পানীয়েই স্বস্তি খুঁজে পান। তবে কফিপ্রেমীদের জন্য বিষয়টা একটু কঠিন। কারণ বছরের সব সময় কফি ছাড়া দিন না চললেও প্রচণ্ড গরমে অনেকেই ভাবেন-কফি কি শরীরকে আরও গরম করে দেবে? এই সমস্যারই অভিনব সমাধান এখন ‘টেন্ডার কোকোনাট কফি’। নাম শুনে অবাক লাগলেও এটি আসলে ডাবের পানি ও কফির এক ভিন্নধর্মী সংমিশ্রণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পানীয়। প্রথম চুমুকে স্বাদ একটু অচেনা লাগতে পারে, তবে অনেকেই বলছেন, একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটি বেশ রিফ্রেশিং লাগে। খাদ্যবিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এমন স্বাদকে বলা হয় অ্যাকোয়ার্ড টেস্ট। অর্থাৎ শুরুতে যেটি নতুন বা অদ্ভুত মনে হয়, ধীরে ধীরে সেটিই হয়ে উঠতে পারে প্রিয় স্বাদ।

 

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই পানীয়?

বর্তমান সময়ে মানুষ শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যকর বিকল্পের খোঁজেও নতুন পানীয় বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে যারা কফি দুধ-চিনি দিয়ে খেতে পছন্দ করেন, তাদের অনেকেই এখন ডাব-কফিকে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন। কালো কফির কড়া স্বাদের সঙ্গে যখন ডাবের প্রাকৃতিক মিষ্টতা মিশে যায়, তখন পানীয়টির স্বাদ হয়ে ওঠে অনেক বেশি মোলায়েম ও সতেজ। পাশাপাশি এতে যোগ হয় ডাবের পানির পুষ্টিগুণও। গরমের দিনে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়। ডাবের পানি সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে কফিতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমিয়ে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে এই দুই উপাদানের মিশ্রণ গরমে অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে জনপ্রিয়।

 

উপকরণ

*ডাবের পানি ১ কাপ

*ডাবের নরম মালাই ২ টেবিল চামচ

*কফি ১ চা চামচ

*দুধ আধা কাপ

*মধু দেড় চামচ

*বরফ কুঁচি বা আইস কিউব প্রয়োজনমতো

 

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে একটি কচি ডাব থেকে পানি আলাদা করে নিন। এরপর ডাবের ভেতরের নরম মালাই চামচ দিয়ে তুলে ব্লেন্ডারে দিন। এর সঙ্গে ডাবের পানি, দুধ ও মধু যোগ করুন। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন, যাতে মিশ্রণটি মসৃণ ও ক্রিমি হয়। অন্যদিকে অল্প গরম পানিতে কফি গুলে নিন। কফি ঠান্ডা হয়ে গেলে সেটি ব্লেন্ড করা ডাবের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এরপর বরফ কুঁচি বা আইস কিউব দিয়ে আবার হালকা ব্লেন্ড করুন। তৈরি হয়ে গেল ঠান্ডা ও রিফ্রেশিং টেন্ডার কোকোনাট কফি।

 

শরীরের জন্য কেন ভালো

গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং পানির ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি। ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। এছাড়া এতে থাকা অ্যামিলেসের মতো বায়ো-অ্যাকটিভ এনজাইম হজমশক্তিও ভালো রাখতে সাহায্য করে। কফির সঙ্গে ডাবের পানি মিশে গেলে পানীয়টি খুব ভারীও লাগে না। ফলে যারা কফি ছাড়তে চান না কিন্তু গরমে কিছুটা হালকা ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি পানীয়।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা কফির পরিমাণ কমিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। একঘেয়ে শরবত বা সফট ড্রিংকের বদলে গরমে ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে চাইলে এই ফিউশন ড্রিংক একবার চেষ্টা করতেই পারেন। ডাবের সতেজতা আর কফির স্বাদ মিলে এটি হতে পারে গরমের দিনের নতুন প্রিয় পানীয়।