ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি Logo খুলনা অঞ্চলে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পুরোদমে চলছে কৃষকদের Logo স্পিকারের ভাষ্য, জুলাই জাদুঘরে শেখ হাসিনা থাকবেন ‘ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক’ অধ্যায় হিসেবে Logo উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরী এখন নেদারল্যান্ডসের পথে, যাত্রীরা ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে Logo একাধিক মামলার অভিযুক্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার অভিযানে হামলার মুখে পড়ে পুলিশ; শেষ পর্যন্ত ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ Logo রোবট প্রযুক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মেটা Logo ঢাকায় পার্কিং অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ পরিবহন কাউন্টার যানজটকে করছে আরও ভয়াবহ Logo তৈরি পোশাক খাতে চলমান সংকট অব্যাহত রয়েছে
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির

রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি, এমন বক্তব্য পুলিশের কাছে দিয়েছে হত্যাকারী চাচা জাকির। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।

 

চার বছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সম্পর্কে চাচা। সোমবার (১১ মে ২০২৬ইং) রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

 

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শান্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল মেয়েটার প্রতি আমার খারাপ দৃষ্টি চলে যায়।

 

জাকির আরও বলেন, পেরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছিলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দু’দিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।

 

এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানার ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।
তবে এই ভিডিওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মুজাহিদুল ইসলাম।

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম)মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ইং) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬ইং) বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দু’দিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির

সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির

আপডেট সময় ১৪ মিনিট আগে

রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি, এমন বক্তব্য পুলিশের কাছে দিয়েছে হত্যাকারী চাচা জাকির। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।

 

চার বছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সম্পর্কে চাচা। সোমবার (১১ মে ২০২৬ইং) রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

 

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শান্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল মেয়েটার প্রতি আমার খারাপ দৃষ্টি চলে যায়।

 

জাকির আরও বলেন, পেরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছিলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দু’দিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।

 

এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানার ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।
তবে এই ভিডিওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মুজাহিদুল ইসলাম।

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম)মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ইং) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬ইং) বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দু’দিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।