ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি Logo খুলনা অঞ্চলে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পুরোদমে চলছে কৃষকদের Logo স্পিকারের ভাষ্য, জুলাই জাদুঘরে শেখ হাসিনা থাকবেন ‘ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক’ অধ্যায় হিসেবে Logo উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরী এখন নেদারল্যান্ডসের পথে, যাত্রীরা ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে Logo একাধিক মামলার অভিযুক্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার অভিযানে হামলার মুখে পড়ে পুলিশ; শেষ পর্যন্ত ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ Logo রোবট প্রযুক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মেটা Logo ঢাকায় পার্কিং অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ পরিবহন কাউন্টার যানজটকে করছে আরও ভয়াবহ Logo তৈরি পোশাক খাতে চলমান সংকট অব্যাহত রয়েছে Logo জাতীয় উচ্চশিক্ষা কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি

স্কুল বয়সে বন্ধুদের কাছ থেকে সিগারেট নিয়া খাইছি। তারপর গাঁজা আর ফেন্সিডিল। ভালোই লাগে খাইতে। কথাগুলো বলছিল মাহফুজ নামে ১৬ বছরের এক শিশু। মাহফুজ-এর বাড়ি রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায়। ছোট বেলায় মা মারা যাওয়ার পর বাবার সাথে ঢাকার এক বস্তিতে থাকতো সে। ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করে প্রতিদিন ৩৫০ টাকা পায়। প্রায় সব টাকাই নেশার পেছনে ব্যয় হয়ে যায়।

আমাদের সমাজে বসবাসরত অনেক শিশু এই ভয়াল নেশার ফাঁদে আটকা পড়ছে। এটি থেকে বের হতে পারছে না। মনোরোগ ও মাদকাসক্তি চিকিৎসাবিদদের মতে, বস্তির শিশু, রাস্তার টোকাই এবং যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সন্তানেরাই আগে মাদক নিত। এখন সমাজের অভিজাত শ্রেণির ছেলেমেয়েরাও মাদক নিয়ে থাকে। সাধারণত ১০-১৫ বছর বয়সী শিশুদের মাদক গ্রহণের সংখ্যা বেশি। মাদকের সহজলভ্যতাই এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যারা মাদকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তারা শিশু ও কিশোরদের বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে। কৌতুহলী হয়েও শিশুরা মাদক নেয়। শুরুতে তারা বলে নেশা করব না, শুধু একটু খেয়ে দেখি। এক সময় তারা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে যায়, স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলে। কিডনী নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়। শুধু দেহ নয়, মননশীলতা, চিন্তা-ভাবনা, মমতা, ভালবাসা সব কিছুই শেষ হয়ে যায়। মাদকসেবীরা অপরাধ প্রবণ হয়ে ওঠে। পথশিশুরা রাস্তায় বড় হয়। মাদকই তাদের একমাত্র বিনোদন। মাদকের বিনিময়ে অপরাধী চক্র তাদের কাজে লাগায়। ভয়ংকর অস্ত্র তুলে দেয় তাদের হাতে। এভাবে একসময় তারা সমাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। সমাজ থেকে তারা হয় নিঃগৃহীত।

প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, নেশা করার জন্য টাকা না পেয়ে সন্তান, মা-বাবাকে খুন করছে। স্বামী, স্ত্রীকে খুন করছে। মাদকের জন্য চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সমাজে বেড়েই চলেছে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে মানুষ খুন করতে কুন্ঠাবোধ করছে না মাদকাসক্তরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিরাময়যোগ্য, তবে সময় সাপেক্ষ। সরকারি পর্যায়ে শিশুদের মাদকাশক্তি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মাত্র ৪টি সরকারি নিরাময় কেন্দ্র আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে মাদকাসক্ত শিশুদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন অব বাংলাদেশ (সিএসপিবি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কিছু স্থানে ড্রপ ইন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মাদকাসক্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অথবা পরিবারে বা সমাজে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত শিশুরাই পরবর্তীতে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাই মা-বাবার উচিৎ সন্তানদের সাথে মাদকের কুফল নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করা। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, ফেশবুকের বন্ধু কারা, স্কুলের বন্ধু কারা, তাদের বন্ধুদের সাথে কথা বলতে হবে। বন্ধু নির্বাচনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাই মাদক নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। শিশুদের নৈতিক মুল্যবোধ তৈরিতে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে। মাদকাসক্ত শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিবারের সকল সদস্যদের সৌহার্দপুর্ণ আচরণ দেখাতে হবে। যাদের অভিভাবক নেই তাদের সহায়তায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে মাদকের ভয়াবহতা থেকে অনেকটা রক্ষা করা যাবে আমাদের শিশুদের।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্কুল বয়সে বন্ধুদের কাছ থেকে সিগারেট নিয়া খাইছি। তারপর গাঁজা আর ফেন্সিডিল। ভালোই লাগে খাইতে। কথাগুলো বলছিল মাহফুজ নামে ১৬ বছরের এক শিশু। মাহফুজ-এর বাড়ি রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায়। ছোট বেলায় মা মারা যাওয়ার পর বাবার সাথে ঢাকার এক বস্তিতে থাকতো সে। ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করে প্রতিদিন ৩৫০ টাকা পায়। প্রায় সব টাকাই নেশার পেছনে ব্যয় হয়ে যায়।

আমাদের সমাজে বসবাসরত অনেক শিশু এই ভয়াল নেশার ফাঁদে আটকা পড়ছে। এটি থেকে বের হতে পারছে না। মনোরোগ ও মাদকাসক্তি চিকিৎসাবিদদের মতে, বস্তির শিশু, রাস্তার টোকাই এবং যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সন্তানেরাই আগে মাদক নিত। এখন সমাজের অভিজাত শ্রেণির ছেলেমেয়েরাও মাদক নিয়ে থাকে। সাধারণত ১০-১৫ বছর বয়সী শিশুদের মাদক গ্রহণের সংখ্যা বেশি। মাদকের সহজলভ্যতাই এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যারা মাদকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তারা শিশু ও কিশোরদের বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে। কৌতুহলী হয়েও শিশুরা মাদক নেয়। শুরুতে তারা বলে নেশা করব না, শুধু একটু খেয়ে দেখি। এক সময় তারা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে যায়, স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলে। কিডনী নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়। শুধু দেহ নয়, মননশীলতা, চিন্তা-ভাবনা, মমতা, ভালবাসা সব কিছুই শেষ হয়ে যায়। মাদকসেবীরা অপরাধ প্রবণ হয়ে ওঠে। পথশিশুরা রাস্তায় বড় হয়। মাদকই তাদের একমাত্র বিনোদন। মাদকের বিনিময়ে অপরাধী চক্র তাদের কাজে লাগায়। ভয়ংকর অস্ত্র তুলে দেয় তাদের হাতে। এভাবে একসময় তারা সমাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। সমাজ থেকে তারা হয় নিঃগৃহীত।

প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, নেশা করার জন্য টাকা না পেয়ে সন্তান, মা-বাবাকে খুন করছে। স্বামী, স্ত্রীকে খুন করছে। মাদকের জন্য চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সমাজে বেড়েই চলেছে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে মানুষ খুন করতে কুন্ঠাবোধ করছে না মাদকাসক্তরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিরাময়যোগ্য, তবে সময় সাপেক্ষ। সরকারি পর্যায়ে শিশুদের মাদকাশক্তি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মাত্র ৪টি সরকারি নিরাময় কেন্দ্র আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে মাদকাসক্ত শিশুদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন অব বাংলাদেশ (সিএসপিবি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কিছু স্থানে ড্রপ ইন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মাদকাসক্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অথবা পরিবারে বা সমাজে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত শিশুরাই পরবর্তীতে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাই মা-বাবার উচিৎ সন্তানদের সাথে মাদকের কুফল নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করা। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, ফেশবুকের বন্ধু কারা, স্কুলের বন্ধু কারা, তাদের বন্ধুদের সাথে কথা বলতে হবে। বন্ধু নির্বাচনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাই মাদক নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। শিশুদের নৈতিক মুল্যবোধ তৈরিতে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে। মাদকাসক্ত শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিবারের সকল সদস্যদের সৌহার্দপুর্ণ আচরণ দেখাতে হবে। যাদের অভিভাবক নেই তাদের সহায়তায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে মাদকের ভয়াবহতা থেকে অনেকটা রক্ষা করা যাবে আমাদের শিশুদের।