ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন বহনে কড়াকড়ি ইসির

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১৬ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কিংবা ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশন এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শুধু নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যকে সীমিত পরিসরে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার কেন্দ্রিক যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় সই করেন। একই নির্দেশনা নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখা থেকে বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। এর বাইরে কেউ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এবার যুক্ত করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ। কোনো ভোটকেন্দ্র বা আশপাশে সহিংসতা কিংবা গোলযোগ দেখা দিলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পাঠানো যাবে।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘বডি ওয়ার্ন’ ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৬৪ জেলায় স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। শেরপুর–৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের মতে, মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ এবং বডি ওয়ার্ন ক্যামেরার সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন বহনে কড়াকড়ি ইসির

আপডেট সময় ১৬ ঘন্টা আগে

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কিংবা ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশন এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শুধু নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যকে সীমিত পরিসরে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার কেন্দ্রিক যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় সই করেন। একই নির্দেশনা নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখা থেকে বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। এর বাইরে কেউ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এবার যুক্ত করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ। কোনো ভোটকেন্দ্র বা আশপাশে সহিংসতা কিংবা গোলযোগ দেখা দিলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পাঠানো যাবে।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘বডি ওয়ার্ন’ ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৬৪ জেলায় স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। শেরপুর–৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের মতে, মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ এবং বডি ওয়ার্ন ক্যামেরার সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।