ফরিদপুরে একদিকে জেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এক নারী নেত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং ও দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ, অন্যদিকে কোতোয়ালি থানার ওসির প্রত্যাহার চেয়ে জেলা বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন—এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ফরিদপুরে এক নারী নেত্রী ও তার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারীর দাবি, গোপনে তার কাপড় বদলানোর ভিডিও ধারণ করে তা ভাইরালের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলিং করা হচ্ছিল। এই অন্যায়ের বিচার চাইতে গেলে জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা জুলফিকার হোসেন জুয়েল ও তার অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যাক্তি সহ বিএনপি নেতা জুয়েলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিয়ে স্থানীয় মহলে কিছুটা ধোঁয়াশা ও রহস্য রয়ে গেছে। সচেতন মহলের মতে, অভিযুক্ত যুবকের সাথে ওই নারীর ঠিক কী সম্পর্ক ছিল, কিংবা কোন স্থানে এই গোপন ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল—তা এখনো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সাধারণত এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, ঘটনাটি ফরিদপুর প্রেসক্লাবে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ পায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করছে, এই খবরটি এত দ্রুত সামনে আসার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে থাকতে পারে।
এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সদ্য যোগদানকৃত ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানের প্রত্যাহার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিক শামসুদ্দীন মোল্লা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন “গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় এলাকাস্থ কার্যালয়ে বহিরাগত কয়েকজন মাদকসেবী আমার কর্মী আরিয়ান খান শিহাবকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ খবর জানার পর আমি ওসিকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বললেও তিনি আসেননি। পরে আমার কর্মীকে পেটানোর সঙ্গে জড়িত আফ্রিদী নামে এক তরুণকে সমর্থকরা ধরে থানায় সোপর্দ করলেও ওসি তাকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেন।”
পুরো পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। কাপড় বদলানোর ভিডিও ধারণ এবং হামলা—দুই বিষয়েরই সত্যতা যাচাই করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণে তদন্ত ব্যাহত হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা না গেলে ফরিদপুরের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে।

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
শফিউল মঞ্জুর ফরিদঃ 



















