ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

ঈদের দিনজুড়ে যেমন থাকতে পারে আবহাওয়া

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তবে ঈদের এই উৎসবের দিনে বাগড়া দিতে পারে পশলা পশলা বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আজ বুধবার (২৭ মে) আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত অবস্থান করছে। মূলত এর প্রভাবেই ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা দেখা যাবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

 

বিগত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টি ও তাপমাত্রা

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভালো পরিমাণে বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৫৮ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ৩৮ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃষ্টির এই দাপটের মধ্যেও খুলনা ও মোংলা অঞ্চলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছিল, যা ছিল যথাক্রমে ৩৫.৬ এবং ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

ঈদের পরবর্তী দিনগুলোর আবহাওয়ার চিত্র

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধু ঈদের দিনই নয়, এর পরবর্তী আরও চার দিন (২৯ থেকে ৩১ মে) দেশের একটি বড় অংশ জুড়ে বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২৯ মে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এরপর ৩০ মে থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বাকি বিভাগগুলোর দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ফলে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

সবশেষ ৩১ মে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টির বেগ কিছুটা বাড়তে পারে। এদিন বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এছাড়া, আগামী ৫ দিনের বর্ধিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নতুন করে একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

ঈদের দিনজুড়ে যেমন থাকতে পারে আবহাওয়া

আপডেট সময় ৯ ঘন্টা আগে

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তবে ঈদের এই উৎসবের দিনে বাগড়া দিতে পারে পশলা পশলা বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আজ বুধবার (২৭ মে) আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত অবস্থান করছে। মূলত এর প্রভাবেই ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা দেখা যাবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

 

বিগত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টি ও তাপমাত্রা

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভালো পরিমাণে বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৫৮ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ৩৮ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃষ্টির এই দাপটের মধ্যেও খুলনা ও মোংলা অঞ্চলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছিল, যা ছিল যথাক্রমে ৩৫.৬ এবং ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

ঈদের পরবর্তী দিনগুলোর আবহাওয়ার চিত্র

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধু ঈদের দিনই নয়, এর পরবর্তী আরও চার দিন (২৯ থেকে ৩১ মে) দেশের একটি বড় অংশ জুড়ে বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২৯ মে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এরপর ৩০ মে থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বাকি বিভাগগুলোর দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ফলে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

সবশেষ ৩১ মে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টির বেগ কিছুটা বাড়তে পারে। এদিন বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এছাড়া, আগামী ৫ দিনের বর্ধিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নতুন করে একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।