ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর নতুন করে হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলেই মূলত মঙ্গলবার (২৬ মে) তেলের বাজার আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক সংকট এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ও সামরিক বোটে হামলার খবর আসার পরপরই বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা পার করে। এর আগে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গত সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ৯৭ ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত সেই স্বস্তির আশায় পানি ঢেলে দিল।

 

জ্বালানি গবেষণা সংস্থা এইচএফআই রিসার্চের মতে, তেলের বাজার এখন এমন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে যেখান থেকে দ্রুত আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা বেশ কঠিন। ডাচ ব্যাংক রাবোব্যাংকের বৈশ্বিক কৌশলবিদ মাইকেল এভারি বলেন, প্রতিবারই যখন মনে হয় সংকট কেটে গিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, ঠিক তখনই নতুন কোনো ঘটনায় পরিস্থিতি আবার বিগড়ে যায়। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের যে আপৎকালীন মজুত ছিল তা অনেকটাই শেষ হয়ে এসেছে, অথচ গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পরিবহনের জ্বালানির চাহিদাও এখন দিন দিন বাড়ছে।

 

দুশ্চিন্তা হরমুজ প্রণালি নিয়ে

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আনা-নেওয়া করা হতো। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সংকটের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করছে, তবে এই বিশেষ ব্যবস্থাও আগামী জুলাই মাসের পর শেষ হয়ে যেতে পারে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, বৈশ্বিক তেলের মজুত এখন ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় নেমে এসেছে। বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির দিকে তাকিয়ে আছে, তবে চুক্তি হলেও তেলের ঘাটতির কারণে বাজারে মূল্যের চাপ থেকেই যাবে।

 

ইউরোপের গ্যাস বাজারেও মন্দাভাব

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ইউরোপের গ্যাসের বাজারেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সংস্থা এইচএসবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ইউরোপের দেশগুলোর গ্যাস মজুত করার সক্ষমতার মাত্র ৩৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় অনেক কম। এই ভূরাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারেও। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে পেট্রলের গড় দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট সময় ১০ ঘন্টা আগে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর নতুন করে হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলেই মূলত মঙ্গলবার (২৬ মে) তেলের বাজার আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক সংকট এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ও সামরিক বোটে হামলার খবর আসার পরপরই বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা পার করে। এর আগে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গত সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ৯৭ ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত সেই স্বস্তির আশায় পানি ঢেলে দিল।

 

জ্বালানি গবেষণা সংস্থা এইচএফআই রিসার্চের মতে, তেলের বাজার এখন এমন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে যেখান থেকে দ্রুত আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা বেশ কঠিন। ডাচ ব্যাংক রাবোব্যাংকের বৈশ্বিক কৌশলবিদ মাইকেল এভারি বলেন, প্রতিবারই যখন মনে হয় সংকট কেটে গিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, ঠিক তখনই নতুন কোনো ঘটনায় পরিস্থিতি আবার বিগড়ে যায়। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের যে আপৎকালীন মজুত ছিল তা অনেকটাই শেষ হয়ে এসেছে, অথচ গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পরিবহনের জ্বালানির চাহিদাও এখন দিন দিন বাড়ছে।

 

দুশ্চিন্তা হরমুজ প্রণালি নিয়ে

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আনা-নেওয়া করা হতো। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সংকটের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করছে, তবে এই বিশেষ ব্যবস্থাও আগামী জুলাই মাসের পর শেষ হয়ে যেতে পারে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, বৈশ্বিক তেলের মজুত এখন ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় নেমে এসেছে। বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির দিকে তাকিয়ে আছে, তবে চুক্তি হলেও তেলের ঘাটতির কারণে বাজারে মূল্যের চাপ থেকেই যাবে।

 

ইউরোপের গ্যাস বাজারেও মন্দাভাব

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ইউরোপের গ্যাসের বাজারেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সংস্থা এইচএসবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ইউরোপের দেশগুলোর গ্যাস মজুত করার সক্ষমতার মাত্র ৩৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় অনেক কম। এই ভূরাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারেও। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে পেট্রলের গড় দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।