ঢাকা , বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রিপোর্টার্স ক্লাব ফরিদপুরের সভা অনুষ্ঠিত Logo উত্তরায় নারী ধর্ষণের খবরটি গুজব, ভাইরাল পোস্টের কোনো ভিত্তি নেই Logo সিলেটে অপরাধ জগতের অন্তরালে বাপ্পির ভয়ংকর ফাঁদ, স্বস্থি ফিরে পেয়েছে তোপখানাবাসী Logo সিলেটে ঈদকে টার্গেট করে জাল নোট চক্র বাজার জাত করণে ৩ সদস্য সক্রিয় Logo সিলেটের গোলাপগঞ্জ ঢাকাদক্ষিণ ডাক বাংলা পুকুর ভরাটের অভিযোগ, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য Logo ত্যাগের মহিমা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সচেতনতার ঈদ Logo সাতক্ষীরায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ফেন্সিডিলের চালান Logo নতুন গানে সাড়া ফেলেছেন নুসরাত ফারিয়া Logo প্রান্তিক খামারিদের বছরে সবচেয়ে বড় আয়ের খাত কোরবানির পশু পালন: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী Logo ছয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে দমকা হাওয়া
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

ফরিদপুরে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিএফ) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই চাল বিতরণ করা হয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেছেন, তাদের ওজনে বেশ কম চাল দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নে এবার মোট ৫৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে এই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।

​স্থানীয় ও সুবিধাভোগীদের সূত্রে জানা যায়, কোনো রকম সঠিক পরিমাপ ছাড়াই বালতি ভরে চাল মেপে বিতরণ করা হচ্ছিল। উপস্থিত সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ১০ কেজির পরিবর্তে তাদের ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

​এমনকি চাল নেওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের পরিমল মন্ডলের স্ত্রী জয়ন্তী রানী স্থানীয় একটি ডিজিটাল পাল্লায় তার চাল পুনরায় ওজন করে দেখেন। সেখানে ১০ কেজির পরিবর্তে ব্যাগে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতি বস্তা বা স্লিপে প্রায় ৬০০ গ্রামেরও বেশি চাল কম দেওয়া হয়েছে।

​চাল বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তবে পরিষদে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে।

​অনুপস্থিতির বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন:​”আমি দাওয়াত খাইতে একজায়গায় আইছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থাইকা দিতেছে। তারা ১০ কেজি দিবে না ১১ কেজি দিবে তারা ভালো জানে।”

​চাল বিতরণে তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন অনিয়মের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন:​”আমি এসে দেখি ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম কম। পরে বলছি ওজন করে ঠিক করে দিতে। আমি একটু বাহিরে গেছি, এসময় একটু অনিয়ম হতে পারে।”

​পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার যেখানে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন উদাসীনতা ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরকারি চাল বিতরণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রিপোর্টার্স ক্লাব ফরিদপুরের সভা অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম

আপডেট সময় ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিএফ) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই চাল বিতরণ করা হয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেছেন, তাদের ওজনে বেশ কম চাল দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নে এবার মোট ৫৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে এই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।

​স্থানীয় ও সুবিধাভোগীদের সূত্রে জানা যায়, কোনো রকম সঠিক পরিমাপ ছাড়াই বালতি ভরে চাল মেপে বিতরণ করা হচ্ছিল। উপস্থিত সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ১০ কেজির পরিবর্তে তাদের ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

​এমনকি চাল নেওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের পরিমল মন্ডলের স্ত্রী জয়ন্তী রানী স্থানীয় একটি ডিজিটাল পাল্লায় তার চাল পুনরায় ওজন করে দেখেন। সেখানে ১০ কেজির পরিবর্তে ব্যাগে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতি বস্তা বা স্লিপে প্রায় ৬০০ গ্রামেরও বেশি চাল কম দেওয়া হয়েছে।

​চাল বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তবে পরিষদে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে।

​অনুপস্থিতির বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন:​”আমি দাওয়াত খাইতে একজায়গায় আইছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থাইকা দিতেছে। তারা ১০ কেজি দিবে না ১১ কেজি দিবে তারা ভালো জানে।”

​চাল বিতরণে তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন অনিয়মের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন:​”আমি এসে দেখি ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম কম। পরে বলছি ওজন করে ঠিক করে দিতে। আমি একটু বাহিরে গেছি, এসময় একটু অনিয়ম হতে পারে।”

​পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার যেখানে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন উদাসীনতা ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরকারি চাল বিতরণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।