ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জাতীয় দলে নেইমারকে রাখতে অনাগ্রহী ৫০.৭৯ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান Logo বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৭১ জনকে গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও বিভাগ Logo গাজায় সহিংসতা ও গণহত্যা প্রতিরোধে ইসরাইলকে আহ্বান জাতিসংঘের Logo আকাশে উঠেছে জিলহজের চাঁদ, ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা Logo সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নারী এমপিদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo চলতি মাসে ১৭ দিনের ব্যবধানে রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ২১৮ কোটি ডলারে Logo দর্শকদের জন্য ওটিটিতে হাজির হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ Logo ৯৫তম বারের মতো পিছিয়ে গেল রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন জমা Logo ঈদে টানা ১৩ দিন সার্বক্ষণিক চালু থাকবে ফিলিং স্টেশন Logo নিরাপদ ঈদযাত্রায় গতিনিয়ন্ত্রণ কঠোর ও চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

বোরো ধানের কম বাজারদরে দুশ্চিন্তায় হাওরাঞ্চলের কৃষক

বোরো ধানের বাজার দরে হতাশ হাওরাঞ্চলের কৃষক। উৎপাদন খরচের চেয়েও কমে কৃষককে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। যদিও বোরো চাষে বিগত সময়ের এবার কৃষককের সার ও জ্বালানিতে খরচ বেশি পড়েছে। ইতিমধ্যে হাওরাঞ্চলের ৭ জেলায় ধান কাটার উৎসব শুরু হয়েছে। কিন্তু বাজারে কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছে না। এলাকাভেদে প্রতি মণ ধান ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য পুরোপুরি শুকনো নয় ওই ধান। তবে একটু শুকিয়ে ওই ধান মণপ্রতি ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারছে। মূলত ঋণের কারণেই অনেক প্রান্তিক কৃষক ধান কাটার সাথে সাথে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। অথচ কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে এক কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ৩২ দশমিক ৯৬ টাকা হিসাব করেছিল। তাতে এক মণ (৪০ কেজি হিসেবে) ধানের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৮ টাকা। এবারও সরকারিভাবে ধানের উৎপাদন খরচের একই রকম হিসাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু  চলতি মৌসুমে বোরো চাষে কৃষককে সার ও সেচে কৃষককে করতে হয়েছে বাড়তি ব্যয়। কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাওরাঞ্চলের জেলাগুলোতে পুরোদমেই ধান কাটা চলছে। কিন্তু যে দামে বেপারিরা ধান কিনছে তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। নেত্রকোনা হাওরে ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। যারা জমি থেকেই ফসল বিক্রি করছেন তারা ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ হিসেবে ধানের দাম পাচ্ছে। আবার একটু প্রত্যন্ত গ্রামে দাম আরো কম।  একই চিত্র কিশোরগঞ্জসহ হাওরের অন্যান্য অঞ্চলেও। আর জমি থেকে যতো বেশি ধান উঠতে থাকবে দামও ততো কমতে থাকবে।

সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই দেশের হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ধান। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাটা হয়েছে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের হাওরে। আর নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জেও ১৫ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়েছে। ওসব জায়গায় গত ৭ এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছে ধান কাটা। সরকার গত বছর খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল কিনেছিল। প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ টাকা এবং সেদ্ধ চালের দাম ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। এবারও সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা শুরুর সময়ের মধ্যেই হাওরের ধান কাটা পুরোপুরি শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশের ধানেরও একটা বড় অংশ কাটা এবং বিক্রির কাজ শেষ হয়ে যাবে।

সূত্র আরো জানায়, বোরো মৌসুমে দেশে প্রতি বছর ২ কোটি টনেরও বেশি চাল উৎপাদন হয়। গত ২০২৫ সালে ২ কোটি ১৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিলো। ধারণা করা হচ্ছে এবার ২ কোটি ২৭ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। মূলত বোরো মৌসুমেই দেশে চালের সবচেয়ে বড় উৎপাদন আসে। যা নিশ্চিত করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত। সরকার মূলত দুটি কারণে ধান ও চাল কেনে। তার একটি সরকারের প্রয়োজনীয় মজুদ তৈরি আর অন্যটি হচ্ছে কৃষক যাতে দাম পায়। কিন্তু কেনাকাটার সময়ের নির্ধারণের পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে প্রতি বছরই ঠকে কৃষক। ফলে সফল হয় না সরকারের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য বেশিরভাগ সময়ই। প্রতি বছরই সরকার বড় একটা অংশ ধান কাটার পর কেনাকাটার ঘোষণা দেয়। অথচ ওই ঘোষণার আরো দু’তিন সপ্তাহ পর সরকার পুরোদমে শুরু করে কেনাকাটা। ওই সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ কৃষক বাজারে ধানের দাম হারায় এবং উৎপাদন খরচের নিচে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আবার দাম যখন বাড়তে শুরু করে তখন বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে আর বিক্রির উপযোগী ধান থাকে না। এই পরিস্থিতি বছরের পর বছর চললেও সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। কৃষকরা দেশকে ভালো ফলনে খাদ্যের জোগান দিলেও মূল্য পান না নিজেরা। যে কারণে ইতিমধ্যেই রেকর্ড সংখ্যক কৃষক ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এদিকে অতিসম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ হাওরের ধান যাতে নির্বিঘ্নে কাটা হয় তার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বয় করে যথাসময়ে হাওরাঞ্চলের ধান কাটা শেষ করার কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে যেসব অঞ্চলে ধান আগে কাটার উপযোগী সেখানে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রয়োজনে হার্ভেস্টার ও ধান কাটার শ্রমিক এনে ধান কাটতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করারও নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় দলে নেইমারকে রাখতে অনাগ্রহী ৫০.৭৯ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান

বোরো ধানের কম বাজারদরে দুশ্চিন্তায় হাওরাঞ্চলের কৃষক

আপডেট সময় ২৩ ঘন্টা আগে

বোরো ধানের বাজার দরে হতাশ হাওরাঞ্চলের কৃষক। উৎপাদন খরচের চেয়েও কমে কৃষককে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। যদিও বোরো চাষে বিগত সময়ের এবার কৃষককের সার ও জ্বালানিতে খরচ বেশি পড়েছে। ইতিমধ্যে হাওরাঞ্চলের ৭ জেলায় ধান কাটার উৎসব শুরু হয়েছে। কিন্তু বাজারে কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছে না। এলাকাভেদে প্রতি মণ ধান ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য পুরোপুরি শুকনো নয় ওই ধান। তবে একটু শুকিয়ে ওই ধান মণপ্রতি ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারছে। মূলত ঋণের কারণেই অনেক প্রান্তিক কৃষক ধান কাটার সাথে সাথে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। অথচ কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে এক কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ৩২ দশমিক ৯৬ টাকা হিসাব করেছিল। তাতে এক মণ (৪০ কেজি হিসেবে) ধানের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৮ টাকা। এবারও সরকারিভাবে ধানের উৎপাদন খরচের একই রকম হিসাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু  চলতি মৌসুমে বোরো চাষে কৃষককে সার ও সেচে কৃষককে করতে হয়েছে বাড়তি ব্যয়। কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাওরাঞ্চলের জেলাগুলোতে পুরোদমেই ধান কাটা চলছে। কিন্তু যে দামে বেপারিরা ধান কিনছে তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। নেত্রকোনা হাওরে ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। যারা জমি থেকেই ফসল বিক্রি করছেন তারা ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ হিসেবে ধানের দাম পাচ্ছে। আবার একটু প্রত্যন্ত গ্রামে দাম আরো কম।  একই চিত্র কিশোরগঞ্জসহ হাওরের অন্যান্য অঞ্চলেও। আর জমি থেকে যতো বেশি ধান উঠতে থাকবে দামও ততো কমতে থাকবে।

সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই দেশের হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ধান। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাটা হয়েছে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের হাওরে। আর নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জেও ১৫ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়েছে। ওসব জায়গায় গত ৭ এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছে ধান কাটা। সরকার গত বছর খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল কিনেছিল। প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ টাকা এবং সেদ্ধ চালের দাম ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। এবারও সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা শুরুর সময়ের মধ্যেই হাওরের ধান কাটা পুরোপুরি শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশের ধানেরও একটা বড় অংশ কাটা এবং বিক্রির কাজ শেষ হয়ে যাবে।

সূত্র আরো জানায়, বোরো মৌসুমে দেশে প্রতি বছর ২ কোটি টনেরও বেশি চাল উৎপাদন হয়। গত ২০২৫ সালে ২ কোটি ১৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিলো। ধারণা করা হচ্ছে এবার ২ কোটি ২৭ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। মূলত বোরো মৌসুমেই দেশে চালের সবচেয়ে বড় উৎপাদন আসে। যা নিশ্চিত করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত। সরকার মূলত দুটি কারণে ধান ও চাল কেনে। তার একটি সরকারের প্রয়োজনীয় মজুদ তৈরি আর অন্যটি হচ্ছে কৃষক যাতে দাম পায়। কিন্তু কেনাকাটার সময়ের নির্ধারণের পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে প্রতি বছরই ঠকে কৃষক। ফলে সফল হয় না সরকারের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য বেশিরভাগ সময়ই। প্রতি বছরই সরকার বড় একটা অংশ ধান কাটার পর কেনাকাটার ঘোষণা দেয়। অথচ ওই ঘোষণার আরো দু’তিন সপ্তাহ পর সরকার পুরোদমে শুরু করে কেনাকাটা। ওই সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ কৃষক বাজারে ধানের দাম হারায় এবং উৎপাদন খরচের নিচে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আবার দাম যখন বাড়তে শুরু করে তখন বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে আর বিক্রির উপযোগী ধান থাকে না। এই পরিস্থিতি বছরের পর বছর চললেও সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। কৃষকরা দেশকে ভালো ফলনে খাদ্যের জোগান দিলেও মূল্য পান না নিজেরা। যে কারণে ইতিমধ্যেই রেকর্ড সংখ্যক কৃষক ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এদিকে অতিসম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ হাওরের ধান যাতে নির্বিঘ্নে কাটা হয় তার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বয় করে যথাসময়ে হাওরাঞ্চলের ধান কাটা শেষ করার কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে যেসব অঞ্চলে ধান আগে কাটার উপযোগী সেখানে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রয়োজনে হার্ভেস্টার ও ধান কাটার শ্রমিক এনে ধান কাটতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করারও নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।