জ্বালানি তেল ও এলপিজির পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ের পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়েও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা পড়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি প্রথম খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে।
একই দিনে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আগেই পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বিতরণ কোম্পানিগুলো খুচরা দাম সমন্বয়ের আবেদন করছে। তিনি বলেন, “আরও কয়েকটি কোম্পানি প্রস্তাব দেবে। সব প্রস্তাব পাওয়ার পর কারিগরি কমিটি যাচাই করবে, এরপর গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।”
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। খুচরা পর্যায়ে এই বাড়তি চাপ সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের কিছুটা ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিটপ্রতি খরচ প্রায় ১২ টাকা ৫০ পয়সা হলেও পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে সাড়ে পাঁচ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরে তা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এই বাড়তি ভর্তুকির চাপ সামলাতে না পেরে সরকার দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা। যদিও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই বছর দাম না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, এখন বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়েছে। এপ্রিল মাসেই দুই দফায় ১২ কেজির এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দামও বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বেড়েছে।
এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বেসরকারি চাকরিজীবী মিলি আক্তার বলেন, “তেলের দাম বাড়ার পরই বাজারে সব কিছুর দাম বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়লে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।” একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবী হাসান মাহমুদ। তার ভাষায়, “গ্যাস নেই, এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেটার দামও বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের বিল বাড়লে সংসার চালানোই দায় হয়ে যাবে।”
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম এই মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, “ভর্তুকি কমানোর বদলে দায়টা সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হচ্ছে। এতে মানুষের ওপর অন্যায় চাপ তৈরি হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু বিদ্যুৎ বিলই নয়, শিল্প উৎপাদন, কৃষি খরচ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগে সরকার, চাপে পড়ার শঙ্কায় সাধারণ জনগণ
অনলাইন ডেস্ক 



















