ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাত পর্যন্ত চালু থাকবে মেট্রোরেল, সময় বাড়ানোর পাশাপাশি কমানো হচ্ছে ট্রেনের ব্যবধান Logo যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নানা অপরাধে জড়িত ২৪ জন আটক Logo রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচারে ১৩ বছরের দেরি, দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রসিকিউশন Logo প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল Logo ১১ বছরের এক শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ Logo রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়তে কাজ করছে পুলিশ Logo সিলেট জুড়ে এপ্রিল মাসে সড়কে ঝরল ১৫ প্রাণ Logo ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তেল জাপানে পৌঁছেছে, এমন তথ্য দিয়েছে গণমাধ্যম Logo সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খাগড়াছড়ির নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন Logo নয় মাসে পাট অধিদপ্তরের জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচারে ১৩ বছরের দেরি, দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রসিকিউশন

দীর্ঘ ১৩ বছর বিলম্বের পর রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলার বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে প্রসিকিউশন।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে বলেন, ‘দেশের অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনার এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চলছে।’

তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মামলাটি অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের পর বিচার কার্যক্রমে গতি আসে। এরপর একাধিক শুনানি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মর্তুজা মোহাম্মদ আন্তিক এক সাক্ষাৎকারে বাসস’কে বলেন, ‘মামলাটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষ করে ৫৯৪ জন সাক্ষীর দীর্ঘ তালিকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত ১৫০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মামলার বাদী, সাব-ইন্সপেক্টর ওয়ালি আশরাফ খান, একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন প্রকৌশলী।

আদালত তৎকালীন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ করসহ প্রধান তদন্ত কর্মকর্তাদেরও তলব করেছে। তাকে আগামী ২১ জুন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট) জারি হতে পারে। অপর তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শহীন শাহ পারভেজ অসুস্থতার কারণে সময় চেয়েছেন।

প্রসিকিউশন আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে। এতে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের আটতলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এতে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন পোশাকশ্রমিক।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পরদিন সকালে চারটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করা হয়। ২৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে জেনারেটর চালু হওয়ার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে।

ঘটনার পরদিন ২৫ এপ্রিল সাভার থানায় সাব-ইন্সপেক্টর ওয়ালি আশরাফ খান মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডি রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে সোহেল রানা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন, ১৩ জন পলাতক এবং ২৫ জন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাত পর্যন্ত চালু থাকবে মেট্রোরেল, সময় বাড়ানোর পাশাপাশি কমানো হচ্ছে ট্রেনের ব্যবধান

রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচারে ১৩ বছরের দেরি, দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রসিকিউশন

আপডেট সময় ৪৫ মিনিট আগে

দীর্ঘ ১৩ বছর বিলম্বের পর রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলার বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে প্রসিকিউশন।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে বলেন, ‘দেশের অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনার এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চলছে।’

তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মামলাটি অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের পর বিচার কার্যক্রমে গতি আসে। এরপর একাধিক শুনানি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মর্তুজা মোহাম্মদ আন্তিক এক সাক্ষাৎকারে বাসস’কে বলেন, ‘মামলাটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষ করে ৫৯৪ জন সাক্ষীর দীর্ঘ তালিকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত ১৫০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মামলার বাদী, সাব-ইন্সপেক্টর ওয়ালি আশরাফ খান, একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন প্রকৌশলী।

আদালত তৎকালীন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ করসহ প্রধান তদন্ত কর্মকর্তাদেরও তলব করেছে। তাকে আগামী ২১ জুন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট) জারি হতে পারে। অপর তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শহীন শাহ পারভেজ অসুস্থতার কারণে সময় চেয়েছেন।

প্রসিকিউশন আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে। এতে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের আটতলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এতে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন পোশাকশ্রমিক।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পরদিন সকালে চারটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করা হয়। ২৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে জেনারেটর চালু হওয়ার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে।

ঘটনার পরদিন ২৫ এপ্রিল সাভার থানায় সাব-ইন্সপেক্টর ওয়ালি আশরাফ খান মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডি রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে সোহেল রানা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন, ১৩ জন পলাতক এবং ২৫ জন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।