সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সম্প্রতি দেখা যায়, বস্তায় ভরে হাজার হাজার পবিত্র কোরআন মাজিদ জাহাজ থেকে গভীর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় এমন ঘটনা দেখে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে কোরআন অবমাননা বলে মনে করলেও, এর পেছনের সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন সাগরে ফেলা হলো পবিত্র কোরআন?
সত্য হচ্ছে, কোরআনের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননা বা ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং পবিত্র এই ধর্মীয় কিতাবের বিশুদ্ধতা রক্ষা করতেই মালয়েশিয়া সরকার এমন অভিনব ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সামান্য হরফ বা হরকতের ভুলের কারণে সূরার অর্থ ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। এ কারণেই ধর্মীয় বিধান মেনে প্রায় ৯ হাজার ত্রুটিপূর্ণ ও অনুমোদনহীন কোরআনের কপি গভীর সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।
সরকারের অভিযান ও বিপুল পরিমাণ কোরআন জব্দ
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দেশের প্রায় ১ হাজার ৭৫৮টি স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ৬২০টি অনুমোদনহীন কোরআনের কপি জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৭৮ হাজার রিঙ্গিত। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৪৪টি তদন্তও শুরু হয়েছে।
বিকল্প উদ্যোগ: ‘জমজম এক্সচেঞ্জ আল কুরআন’
ত্রুটিপূর্ণ কোরআনগুলো শুধু ধ্বংসই করা হয়নি, এর বিপরীতে একটি দারুণ বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। ‘জমজম এক্সচেঞ্জ আল কুরআন’ কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের কাছ থেকে পুরনো বা অনুমোদনহীন কোরআনের কপি নিয়ে, এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন ও ত্রুটিমুক্ত অনুমোদিত কপি বিতরণ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির অধীনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজারেরও বেশি কোরআনের কপি বিনিময় করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মূলত, পবিত্র কোরআনের কোনো ধরনের ভুল অনুবাদ বা ত্রুটিযুক্ত ছাপানো কপি যেন সমাজে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই মহৎ উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সাগরে হাজার হাজার কোরআন ফেলল মালয়েশিয়া! বেরিয়ে এলো যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মাহ্দী হাসান 





















