আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দুই কোটি লিটার সয়াবিন তেল আমদানি, তিন কার্গো এলএনজি ক্রয় এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নসহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির ২০তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় মোট ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রস্তাব পরে প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১০টি প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল টিসিবির জন্য সয়াবিন তেল আমদানি। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি ট্রিনিটি কাহায়া এনার্জি প্রতি লিটার ১ দশমিক ১৫১ মার্কিন ডলার দরে তেল সরবরাহ করবে। পুরো চালানের জন্য ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, পরিবহনসহ প্রতি লিটার তেলের মোট খরচ পড়বে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারমূল্যের তুলনায় কম।
একই সভায় জুন মাসে সরবরাহযোগ্য তিনটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ভাইটাল এশিয়া, বিপি সিঙ্গাপুর ও গানভর সিঙ্গাপুর থেকে এসব এলএনজি কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ২২২ টাকা।
বিদ্যুৎ খাতেও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত এসেছে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নের তিনটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন করবে কনসোর্টিয়াম অব ইইএল অ্যান্ড এফএইচএল এবং রেভারি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা।
এছাড়া সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট এবং ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে এই বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা হবে।
সভায় আরও অনুমোদন পেয়েছে শেরেবাংলা নগরে ১২ তলা মাল্টিস্টোরিড অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জিকেবিপিএল ও নাভানা রিয়েল এস্টেট।
র্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ ও ৬০টি এসি মাইক্রোবাস কেনার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে কমিটি। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে এসব যানবাহন কেনা হবে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের ভূমি উন্নয়ন কাজের পাঁচটি প্যাকেজের সংশোধিত ব্যয়ও অনুমোদন পেয়েছে। এ খাতে অতিরিক্ত ১৯৯ কোটি ৭৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট ২০২৬’-এর খসড়া এবং ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ভর্তুকি দেওয়ার একটি প্রস্তাবে আংশিক নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এলএনজি, বিদ্যুৎ ও সয়াবিন তেলসহ ১০ প্রস্তাব পাস, খরচ হবে হাজার কোটি টাকা
অনলাইন ডেস্ক 

















