ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের Logo বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত Logo ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা নির্ধারণ Logo ঈদ যাত্রা: সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় Logo তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণা জামায়াত আমিরের Logo কৃষক কার্ড বিতরণের সামগ্রিক বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি দৃশ্যমান করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo আমিরাতের প্রধান বন্দরের কাছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলা Logo ঈদযাত্রা: আনন্দের পথে অনিশ্চয়তার ছায়া Logo ‘দম’র প্রচারণায় স্টেডিয়ামে পূজা-নিশো
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

ঈদযাত্রা: আনন্দের পথে অনিশ্চয়তার ছায়া

  • মোঃ মাসুম আহমেদ
  • আপডেট সময় ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ঈদ আসলেই শহরের বাতাসে এক ধরনের অদ্ভুত ব্যস্ততা টের পাওয়া যায়। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট—সব জায়গায় শুধু একটাই দৃশ্য: মানুষ ঘরে ফিরতে চায়। কেউ বাবার জন্য নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে যাচ্ছে, কেউ মায়ের জন্য শাড়ি, সবাই যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী আবার কেউ শুধু নিজের উপস্থিতিটাই নিয়ে যেতে চায় প্রিয়জনদের কাছে। এই টানটাই তো ঈদের আসল সৌন্দর্য।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের পথটাই কেন এত কষ্টের?

বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তারপরও টিকিট না পাওয়া—এ যেন এখন স্বাভাবিক ঘটনা। অনেকেই শেষমেশ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নেন। কেউ বাসের ছাদে, কেউ ট্রাকের পেছনে—শুধু একটু আগে বাড়ি পৌঁছানোর আশায়। প্রশ্ন হলো, এই ঝুঁকিটা কি সত্যিই নেওয়ার কথা ছিল?

প্রতি বছরই শোনা যায় নানা প্রস্তুতির কথা—অতিরিক্ত ট্রেন, বিশেষ সার্ভিস, কঠোর নজরদারি। কিন্তু বাস্তবে যাত্রীরা কতটা স্বস্তি পান? যদি সত্যিই সব ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তাহলে কি মানুষ এখনো এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে পথে নামত?

সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো—এই ঈদযাত্রা অনেক সময় আনন্দের বদলে শোক বয়ে আনে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর, স্বজন হারানোর কান্না—এসব কি আমাদের কাছে নতুন কিছু? তবুও আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর আবার সব আগের মতো।

তবে দায়টা শুধু একপক্ষের নয়। পরিবহন খাতের অনিয়ম যেমন আছে, তেমনি আমাদের মাঝেও অসচেতনতা কম নয়। আমরা অনেকেই জানি ঝুঁকি আছে, তবুও শর্টকাট খুঁজি। দ্রুত পৌঁছাতে গিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করি। এই মানসিকতা বদলানোও জরুরি।

ঈদ মানে শুধু একটি উৎসব নয়—এটা মানুষের কাছে ফেরার গল্প। সেই ফেরার পথ যদি ভোগান্তি আর ভয় দিয়ে ভরা থাকে, তাহলে আনন্দটা কোথায় থাকে?

হয়তো এখন সময় এসেছে শুধু প্রস্তুতির ঘোষণা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখার। আর আমাদেরও ভাবতে হবে—একটু দেরি হলেও নিরাপদে পৌঁছানোই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

ঈদযাত্রা হোক সত্যিকারের ঘরে ফেরার আনন্দের পথ—ভয় আর অনিশ্চয়তার নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের

ঈদযাত্রা: আনন্দের পথে অনিশ্চয়তার ছায়া

আপডেট সময় ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ঈদ আসলেই শহরের বাতাসে এক ধরনের অদ্ভুত ব্যস্ততা টের পাওয়া যায়। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট—সব জায়গায় শুধু একটাই দৃশ্য: মানুষ ঘরে ফিরতে চায়। কেউ বাবার জন্য নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে যাচ্ছে, কেউ মায়ের জন্য শাড়ি, সবাই যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী আবার কেউ শুধু নিজের উপস্থিতিটাই নিয়ে যেতে চায় প্রিয়জনদের কাছে। এই টানটাই তো ঈদের আসল সৌন্দর্য।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের পথটাই কেন এত কষ্টের?

বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তারপরও টিকিট না পাওয়া—এ যেন এখন স্বাভাবিক ঘটনা। অনেকেই শেষমেশ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নেন। কেউ বাসের ছাদে, কেউ ট্রাকের পেছনে—শুধু একটু আগে বাড়ি পৌঁছানোর আশায়। প্রশ্ন হলো, এই ঝুঁকিটা কি সত্যিই নেওয়ার কথা ছিল?

প্রতি বছরই শোনা যায় নানা প্রস্তুতির কথা—অতিরিক্ত ট্রেন, বিশেষ সার্ভিস, কঠোর নজরদারি। কিন্তু বাস্তবে যাত্রীরা কতটা স্বস্তি পান? যদি সত্যিই সব ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তাহলে কি মানুষ এখনো এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে পথে নামত?

সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো—এই ঈদযাত্রা অনেক সময় আনন্দের বদলে শোক বয়ে আনে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর, স্বজন হারানোর কান্না—এসব কি আমাদের কাছে নতুন কিছু? তবুও আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর আবার সব আগের মতো।

তবে দায়টা শুধু একপক্ষের নয়। পরিবহন খাতের অনিয়ম যেমন আছে, তেমনি আমাদের মাঝেও অসচেতনতা কম নয়। আমরা অনেকেই জানি ঝুঁকি আছে, তবুও শর্টকাট খুঁজি। দ্রুত পৌঁছাতে গিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করি। এই মানসিকতা বদলানোও জরুরি।

ঈদ মানে শুধু একটি উৎসব নয়—এটা মানুষের কাছে ফেরার গল্প। সেই ফেরার পথ যদি ভোগান্তি আর ভয় দিয়ে ভরা থাকে, তাহলে আনন্দটা কোথায় থাকে?

হয়তো এখন সময় এসেছে শুধু প্রস্তুতির ঘোষণা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখার। আর আমাদেরও ভাবতে হবে—একটু দেরি হলেও নিরাপদে পৌঁছানোই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

ঈদযাত্রা হোক সত্যিকারের ঘরে ফেরার আনন্দের পথ—ভয় আর অনিশ্চয়তার নয়।