ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ বছরের এক শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ Logo রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়তে কাজ করছে পুলিশ Logo সিলেট জুড়ে এপ্রিল মাসে সড়কে ঝরল ১৫ প্রাণ Logo ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তেল জাপানে পৌঁছেছে, এমন তথ্য দিয়েছে গণমাধ্যম Logo সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খাগড়াছড়ির নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন Logo নয় মাসে পাট অধিদপ্তরের জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা Logo খুলনাঞ্চলে এ মৌসুমে প্রায় ৫৬৩ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা Logo পুরো এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই কাটিয়েছে দেশ Logo পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার Logo উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি বিষয়ে কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশিকা প্রকাশিত
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়তে কাজ করছে পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ লক্ষ্যে বসিলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ক্যাম্প চালুর পর বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর হাউজিং এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে বসিলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে ডিএমপি।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল অস্থায়ী এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। ক্যাম্পে ১০১ জনেরও বেশি সদস্য কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য ৩৫ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৬৬ জন। পুলিশের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে গাড়ি ও চালক। ফলে বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও নজরদারি আগের তুলনায় আরো সক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একটি বসিলা ব্রিজের ঢাল এলাকায়; সেখানে একজন অফিসারসহ কমপক্ষে ১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অপরটি রায়ের বাজার স্মৃতিসৌধের সামনে, সেখানে ১০ জন এপিবিএন ফোর্সের সদস্য স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করছে। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট ও টহল অভিযানে মাদকসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং অপরাধীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বাসসকে জানান, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো- এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। বসিলা এলাকাটি মোহাম্মদপুর থানা (পুলিশ স্টেশন) থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় আগে থেকেই এখানে অপরাধীদের তৎপরতা বেশি ছিল। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্প স্থাপনের পর নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এখন স্থানীয় মানুষ দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাবে, যেকোনো অভিযোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। ভবিষ্যতে এই ক্যাম্প অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ভাসমান মানুষের বসবাস বেশি হওয়ায় এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। তাছাড়া বস্তি ও রিকশার গ্যারেজের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। রুটি-রুজির তেমন ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার অনেকে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এমনকি শিশুরাও এসব কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর হাউজিংয়ের কিছু এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা বেড়েই চলছে। রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও বুড়িগঙা নদীর পাড় এলাকায় এসব অপরাধ বেশি সংঘটিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘মিনি থানার’ আদলে এ পুলিশ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। মোহাম্মদপুর থানার সঙ্গে সমন্বয় করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্যাম্প থেকে জরুরি অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেবা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বড় ধরনের অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম এখনও থানার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ক্যাম্প চালুর ফলে দ্রুত সাড়া প্রদান নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

ক্যাম্পের অধীনে ফুট পেট্রোল ও হোন্ডা মোবাইল টিমের টহল কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। কিশোর গ্যাং, মাদক বিক্রেতা, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বসিলার চেকপোস্টে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং শিগগিরই আরও ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

পুলিশ জানায়, জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯-এ চুরি, মারামারি বা পুলিশি সহায়তার অভিযোগ এলে দ্রুত সাড়া দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টহল দল, কুইক রেসপন্স টিম ও হোন্ডা মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন, জমি দখল বা মারামারির মতো ঘটনায় থানা পর্যন্ত আসার আগেই ক্যাম্প থেকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করলে সরাসরি থানায় হস্তান্তর করা হয়। ওয়ারেন্টভুক্ত মামলার আসামি বা মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হচ্ছে। ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা একজন অফিসার দায়িত্বে থাকেন। জিডি এখনও থানায় এন্ট্রি হলেও শিগরিগরই ক্যাম্পে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া একটি সরকারি হটলাইন নম্বর চালুর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ছিনতাইকারী, মাদক বা চাঁদাবাজ সংক্রান্ত তথ্য যারা দেবেন, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

বসিলায় অপরাধের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তিন রাস্তার মোড় ও আশপাশের কিছু এলাকা। নবীনগরের ১ও ২ এবং ৭ নম্বর রোডে ছিনতাইয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। তিন রাস্তার মোড় থেকে সুনা মিয়ার ট্যাংকি পর্যন্ত এলাকা মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। বুড়িগঙ্গার পাড়ের ওয়াকিং ওয়েতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এবং অপরাধীরা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জে পালিয়ে যায়। এমনকি এ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশের দাবি, ক্যাম্প চালুর পর থেকে এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে। নিয়মিত চেকপোস্ট, টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বসিলা ও আশপাশের এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পুলিশের উপস্থিতি গলিতে গলিতে দৃশ্যমান থাকলে অপরাধীরা ভয় পাবে ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে। এটাই ক্যাম্প স্থাপনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা যায়, আগামী ৩০ দিনকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপক পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসিলায় অস্থায়ী ক্যাম্পে দুটো রুমে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। কোন ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আসলে সাথে সাথে দেয়া হচ্ছে সেবা। হাবিব সারোয়ার নামে স্থায়ী এক ব্যক্তি বাসসকে বলেন, এ ক্যাম্প স্থাপনের পর আমরা ভরসা পাচ্ছি। পুলিশ যদি এভাবে ইতিবাচক কাজ করতে থাকে তাহলে দ্রুত বসিলা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হবে।

এ বিষয়ে বসিলা ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ক্যাম্প চালুর পর থেকেই নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করছি। ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যেকোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক কুইক রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও আমরা পাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই এলাকাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ বছরের এক শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়তে কাজ করছে পুলিশ

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ লক্ষ্যে বসিলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ক্যাম্প চালুর পর বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর হাউজিং এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে বসিলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে ডিএমপি।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল অস্থায়ী এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। ক্যাম্পে ১০১ জনেরও বেশি সদস্য কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য ৩৫ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৬৬ জন। পুলিশের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে গাড়ি ও চালক। ফলে বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও নজরদারি আগের তুলনায় আরো সক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একটি বসিলা ব্রিজের ঢাল এলাকায়; সেখানে একজন অফিসারসহ কমপক্ষে ১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অপরটি রায়ের বাজার স্মৃতিসৌধের সামনে, সেখানে ১০ জন এপিবিএন ফোর্সের সদস্য স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করছে। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট ও টহল অভিযানে মাদকসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং অপরাধীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বাসসকে জানান, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো- এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। বসিলা এলাকাটি মোহাম্মদপুর থানা (পুলিশ স্টেশন) থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় আগে থেকেই এখানে অপরাধীদের তৎপরতা বেশি ছিল। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্প স্থাপনের পর নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এখন স্থানীয় মানুষ দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাবে, যেকোনো অভিযোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। ভবিষ্যতে এই ক্যাম্প অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ভাসমান মানুষের বসবাস বেশি হওয়ায় এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। তাছাড়া বস্তি ও রিকশার গ্যারেজের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। রুটি-রুজির তেমন ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার অনেকে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এমনকি শিশুরাও এসব কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর হাউজিংয়ের কিছু এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা বেড়েই চলছে। রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও বুড়িগঙা নদীর পাড় এলাকায় এসব অপরাধ বেশি সংঘটিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘মিনি থানার’ আদলে এ পুলিশ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। মোহাম্মদপুর থানার সঙ্গে সমন্বয় করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্যাম্প থেকে জরুরি অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেবা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বড় ধরনের অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম এখনও থানার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ক্যাম্প চালুর ফলে দ্রুত সাড়া প্রদান নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

ক্যাম্পের অধীনে ফুট পেট্রোল ও হোন্ডা মোবাইল টিমের টহল কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। কিশোর গ্যাং, মাদক বিক্রেতা, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বসিলার চেকপোস্টে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং শিগগিরই আরও ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

পুলিশ জানায়, জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯-এ চুরি, মারামারি বা পুলিশি সহায়তার অভিযোগ এলে দ্রুত সাড়া দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টহল দল, কুইক রেসপন্স টিম ও হোন্ডা মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন, জমি দখল বা মারামারির মতো ঘটনায় থানা পর্যন্ত আসার আগেই ক্যাম্প থেকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করলে সরাসরি থানায় হস্তান্তর করা হয়। ওয়ারেন্টভুক্ত মামলার আসামি বা মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হচ্ছে। ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা একজন অফিসার দায়িত্বে থাকেন। জিডি এখনও থানায় এন্ট্রি হলেও শিগরিগরই ক্যাম্পে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া একটি সরকারি হটলাইন নম্বর চালুর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ছিনতাইকারী, মাদক বা চাঁদাবাজ সংক্রান্ত তথ্য যারা দেবেন, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

বসিলায় অপরাধের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তিন রাস্তার মোড় ও আশপাশের কিছু এলাকা। নবীনগরের ১ও ২ এবং ৭ নম্বর রোডে ছিনতাইয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। তিন রাস্তার মোড় থেকে সুনা মিয়ার ট্যাংকি পর্যন্ত এলাকা মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। বুড়িগঙ্গার পাড়ের ওয়াকিং ওয়েতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এবং অপরাধীরা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জে পালিয়ে যায়। এমনকি এ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশের দাবি, ক্যাম্প চালুর পর থেকে এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে। নিয়মিত চেকপোস্ট, টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বসিলা ও আশপাশের এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পুলিশের উপস্থিতি গলিতে গলিতে দৃশ্যমান থাকলে অপরাধীরা ভয় পাবে ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে। এটাই ক্যাম্প স্থাপনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা যায়, আগামী ৩০ দিনকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপক পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসিলায় অস্থায়ী ক্যাম্পে দুটো রুমে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। কোন ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আসলে সাথে সাথে দেয়া হচ্ছে সেবা। হাবিব সারোয়ার নামে স্থায়ী এক ব্যক্তি বাসসকে বলেন, এ ক্যাম্প স্থাপনের পর আমরা ভরসা পাচ্ছি। পুলিশ যদি এভাবে ইতিবাচক কাজ করতে থাকে তাহলে দ্রুত বসিলা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হবে।

এ বিষয়ে বসিলা ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ক্যাম্প চালুর পর থেকেই নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করছি। ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যেকোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক কুইক রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও আমরা পাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই এলাকাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।