পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ভয় দেখাতে গিয়ে নিজের পিস্তলটিই খোয়ালেন স্বামী। ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর মায়ের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় ১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত অস্ত্রধারী স্বামী রেজাউল শিকদার পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চক ভবানীপুর গ্রামের সালেহা বেগমের বাড়ি থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল শিকদারের সঙ্গে তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত প্রায় এক বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছিলেন। ঈদের ছুটিতে শারমিন সন্তানদের নিয়ে ফরিদপুরের চক ভবানীপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। খবর পেয়ে রবিবার রাতে রেজাউল সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন।
অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীকে জোর করে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রেজাউল। এতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করে শারমিন ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে রেজাউল এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোঁড়েন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শারমিনের মা সালেহা বেগম অত্যন্ত কৌশলে ও সাহসিকতার সাথে রেজাউলের কাছ থেকে পিস্তলটি কেড়ে নিয়ে নিজের হেফাজতে রেখে দেন। সোমবার সকালে তিনি বিষয়টি প্রতিবেশী ও পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার এসআই নুর তার টিমসহ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পিস্তলটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী এই পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি ৯ এমএম পিস্তলের ভেতরে এক রাউন্ড তাজা গুলি লোড করা ছিল, তবে সেটির ম্যাগজিনটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই রেজাউল শিকদার ম্যাগজিনটি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরসহ পলাতক অভিযুক্ত রেজাউল শিকদারকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

ভোক্তাদের স্বস্তি, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হ্রাস
শফিউল মঞ্জুর ফরিদ 












