ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য নাশকতার গোয়েন্দা সতর্কতার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময়ই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।”

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি সতর্কতামূলক চিঠিকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই চিঠিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিঠি পাওয়ার পর বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি জোরদার করা হয়েছে টার্মিনাল, প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাতেও।

বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত হয়নি। তারপরও আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট ওঠানামা করে না, সেগুলোতেও রাতের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলার চেষ্টা করতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের।

বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে। এসব বিমানবন্দরে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটির পাশাপাশি এপিবিএন, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। নতুন সতর্কতার পর তাদের কার্যক্রমও আরও সমন্বিত করা হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, তবে আমরা মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করি।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তাৎক্ষণিক হুমকির তথ্য না থাকলেও প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

আপডেট সময় ২৩ ঘন্টা আগে

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য নাশকতার গোয়েন্দা সতর্কতার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময়ই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।”

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি সতর্কতামূলক চিঠিকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই চিঠিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিঠি পাওয়ার পর বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি জোরদার করা হয়েছে টার্মিনাল, প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাতেও।

বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত হয়নি। তারপরও আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট ওঠানামা করে না, সেগুলোতেও রাতের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলার চেষ্টা করতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের।

বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে। এসব বিমানবন্দরে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটির পাশাপাশি এপিবিএন, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। নতুন সতর্কতার পর তাদের কার্যক্রমও আরও সমন্বিত করা হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, তবে আমরা মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করি।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তাৎক্ষণিক হুমকির তথ্য না থাকলেও প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।