স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজগুলোর প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সকাল ১১টার পর ক্লাস বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ঘোষিত এ কর্মসূচি রোববার (৭ জুন) থেকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্যকর হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসকদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অবহেলার প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। কয়েক দফা আন্দোলন ও আলোচনার পরও অধিকাংশ দাবি নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, সম্প্রতি সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। পরে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স, বিসিপিএস, প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিলেও বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মহলের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এফসিপিএস প্রশিক্ষণ নীতিমালার প্রস্তাব, ভর্তি পরীক্ষার উচ্চ ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল ভাতা, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের অনিশ্চিত বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। কিন্তু আশ্বাসের বাইরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। টানা দুই দিন মানববন্ধনের পর রোববার সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি বেলা ১১টার পর ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি পালন করছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, “আমরা রোগীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মবিরতি পিছিয়েছিলাম। প্রশাসনকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি পালন করছি।”
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন নীতিমালার বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিল, বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ, ইন্টার্নদের মাসিক ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের জন্য নবম গ্রেডের সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন অনুযায়ী সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করল যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক 



















