ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে দেশে ফিরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র Logo শিল্পখাতের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবা চালুর সময় Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম উদ্যোগ, ২৭ ওয়ার্ডে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করছে ডিএসসিসি Logo জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের নিয়মে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফিফা Logo ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন সেনাসদস্য Logo স্থানীয় পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৃক্ষরোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo অবশেষে বিয়ের তারিখ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দিলেন আমির খান Logo শিক্ষার্থীদের চাপ কমাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় এবং কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ Logo মুগদা থানা পুলিশের অভিযানে নানা অপরাধে সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি আটক Logo স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন, প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম উদ্যোগ, ২৭ ওয়ার্ডে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করছে ডিএসসিসি

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত এবং সম্ভাব্য ডেঙ্গু ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করতে পরিচালিত বর্ষা-পূর্ব জরিপে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেসব এলাকায় বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. নিশাত পারভীন বাসস’কে জানান, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার যৌথ উদ্যোগে গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তথ্য সংগ্রহে অংশ নেন ৩৬ জন প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী। জরিপের নির্ভুলতা নিশ্চিতে ব্যবহৃত হয় আধুনিক ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ‘কোবো টুলবক্স’ (কড়নড়ঞড়ড়ষনড়ী)।

জরিপে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হয়। এসব সূচকের মাধ্যমে কোন এলাকায় মশার প্রজনন বেশি এবং কোথায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি-সেগুলোর বৈজ্ঞানিক চিত্র পাওয়া গেছে। ফলাফলে দেখা যায়, ৬৩টি ওয়ার্ডে এডিস মশার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৭টি ওয়ার্ডে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

জরিপকালে পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া যায়। ভবনের ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনগুলোতে সবচেয়ে বেশি লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্ত স্থাপনার ৩৫.২৩ শতাংশই বহুতল ভবন। এছাড়া স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিএসসিসি মনে করছে, বহুতল ভবনের ছাদ, অব্যবহৃত পানির ট্যাংক, এসির ট্রে, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি বর্তমানে এডিস মশার অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু বস্তি বা নিম্নআয়ের আবাসিক এলাকাই নয়, আধুনিক আবাসিক ভবনগুলোও ডেঙ্গু ঝুঁকির আওতায় চলে এসেছে।

জরিপে মশার প্রজননস্থল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ, বালতিতে জমে থাকা পানিতে ১০.৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ দৈনন্দিন ব্যবহারের সাধারণ পাত্র ও জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাসস’কে জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ডিএসসিসি ইতোমধ্যে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে পাঁচদিনের বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। আগামীকাল ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে। কর্মসূচির আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য অপসারণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিবিড় নজরদারি চালানো হবে।

পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, এবার কেবল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে জরিপভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ করা যায়।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আজ (শনিবার) ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ সিটির অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। ডিএসসিসি আশা করছে, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা মারার চেয়ে এটির জন্মস্থান ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। তাই নগরবাসীকে সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘ড্রাই ডে’ পালন করে বাসা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, টব, ড্রাম, বালতি এবং আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিক, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, ভবন মালিক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত আগাম পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ অভিযান এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ হাজার ৬০০-এর বেশি অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে দেশে ফিরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম উদ্যোগ, ২৭ ওয়ার্ডে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করছে ডিএসসিসি

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত এবং সম্ভাব্য ডেঙ্গু ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করতে পরিচালিত বর্ষা-পূর্ব জরিপে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেসব এলাকায় বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. নিশাত পারভীন বাসস’কে জানান, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার যৌথ উদ্যোগে গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তথ্য সংগ্রহে অংশ নেন ৩৬ জন প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী। জরিপের নির্ভুলতা নিশ্চিতে ব্যবহৃত হয় আধুনিক ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ‘কোবো টুলবক্স’ (কড়নড়ঞড়ড়ষনড়ী)।

জরিপে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হয়। এসব সূচকের মাধ্যমে কোন এলাকায় মশার প্রজনন বেশি এবং কোথায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি-সেগুলোর বৈজ্ঞানিক চিত্র পাওয়া গেছে। ফলাফলে দেখা যায়, ৬৩টি ওয়ার্ডে এডিস মশার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৭টি ওয়ার্ডে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

জরিপকালে পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া যায়। ভবনের ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনগুলোতে সবচেয়ে বেশি লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্ত স্থাপনার ৩৫.২৩ শতাংশই বহুতল ভবন। এছাড়া স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিএসসিসি মনে করছে, বহুতল ভবনের ছাদ, অব্যবহৃত পানির ট্যাংক, এসির ট্রে, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি বর্তমানে এডিস মশার অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু বস্তি বা নিম্নআয়ের আবাসিক এলাকাই নয়, আধুনিক আবাসিক ভবনগুলোও ডেঙ্গু ঝুঁকির আওতায় চলে এসেছে।

জরিপে মশার প্রজননস্থল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ, বালতিতে জমে থাকা পানিতে ১০.৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ দৈনন্দিন ব্যবহারের সাধারণ পাত্র ও জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাসস’কে জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ডিএসসিসি ইতোমধ্যে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে পাঁচদিনের বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। আগামীকাল ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে। কর্মসূচির আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য অপসারণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিবিড় নজরদারি চালানো হবে।

পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, এবার কেবল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে জরিপভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ করা যায়।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আজ (শনিবার) ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ সিটির অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। ডিএসসিসি আশা করছে, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা মারার চেয়ে এটির জন্মস্থান ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। তাই নগরবাসীকে সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘ড্রাই ডে’ পালন করে বাসা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, টব, ড্রাম, বালতি এবং আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিক, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, ভবন মালিক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত আগাম পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ অভিযান এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।