ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাগরে হাজার হাজার কোরআন ফেলল মালয়েশিয়া! বেরিয়ে এলো যে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo তেজগাঁও বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৮০ জন অপরাধী গ্রেপ্তার Logo আদালতের মামলা কমাতে সরকার নিচ্ছে ধারাবাহিক উদ্যোগ, দ্রুত নিষ্পত্তির আশাবাদ Logo উৎপাদনে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি Logo নতুন ই-বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত Logo যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবে ‘অসম্ভব’ যুদ্ধ বা ‘অলাভজনক’ চুক্তির একটি: ইরানি গার্ড বাহিনী Logo রূপকথার দরজা খুলতে আরেকটু অপেক্ষা— ‘The Chronicles of Narnia’ পিছিয়ে গেলো Logo তৃণমূলের প্রতিভা তুলে আনা ও ক্রীড়া কূটনীতি জোরদারে কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo মুলতবি ৬৮ হাজার এনআইডি আবেদন দ্রুত শেষ করতে ইসির নির্দেশ Logo কুমিল্লায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার; উত্তেজনায় থানা ঘেরাও, বাস টার্মিনালে অবরোধ
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।
খাদ্যে ভেজাল

যখন বেঁচে থাকার অবলম্বনই হয়ে ওঠে মরণফাঁদ

বাজারে গেলে এখন আর টাটকা সবজি দেখে মন ভালো হয় না, বরং এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে। চকচকে আপেল কিংবা লাল টকটকে টমেটো দেখে মনে হয়—এর ভেতরে কি জীবন আছে নাকি লুকিয়ে আছে মরণব্যাধি? বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘নিরাপদ খাদ্য’ শব্দটি এখন কেবল বইয়ের পাতায় বা সেমিনারের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের পাতে এখন পুষ্টির চেয়ে বিষই উঠছে বেশি।
মুনাফার লোভে লাশের মিছিল

একজন ব্যবসায়ী যখন দুধে ফরমালিন মেশান বা মশলায় কাপড়ের রং মেশান, তিনি কি একবারও ভাবেন এই খাবারটি তার নিজের সন্তানও খেতে পারে? এই যে নৈতিকতার চরম অবক্ষয়, এর পেছনে দায়ী মূলত দ্রুত বড়লোক হওয়ার অসুস্থ মানসিকতা। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ—ভেজালমুক্ত কোনো পণ্য খুঁজে পাওয়া এখন যেন খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কঠিন। আমাদের রান্নাঘরগুলো এখন এক একটা ছোটখাটো ল্যাবরেটরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিন আমরা অজান্তেই স্লো-পয়জনিংয়ের শিকার হচ্ছি।
আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?

বাংলাদেশে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ আছে, আছে মোবাইল কোর্টের অভিযানও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাতে কি পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে? জেল-জরিমানা হওয়ার পরও কিছুদিন পর আবার সেই একই চিত্র দেখা যায়। বড় বড় সিন্ডিকেট বা অসাধু আমদানিকারকরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শুধু চুনোপুঁটি ধরলে এই মহামারি থামানো সম্ভব নয়; শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।

আমাদের করণীয় কী?
কেবল প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। একজন ভোক্তা হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। অতি উজ্জ্বল বা কৃত্রিমভাবে পাকা ফল বর্জন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর সরকারকে বিএসটিআই বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস যেন কেউ না পায়, সরকারকে সেই ইস্পাতকঠিন বার্তা দিতে হবে। কারণ, বিষাক্ত খাদ্য খেয়ে একটি জাতি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে হাজার হাজার কোরআন ফেলল মালয়েশিয়া! বেরিয়ে এলো যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

খাদ্যে ভেজাল

যখন বেঁচে থাকার অবলম্বনই হয়ে ওঠে মরণফাঁদ

আপডেট সময় ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বাজারে গেলে এখন আর টাটকা সবজি দেখে মন ভালো হয় না, বরং এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে। চকচকে আপেল কিংবা লাল টকটকে টমেটো দেখে মনে হয়—এর ভেতরে কি জীবন আছে নাকি লুকিয়ে আছে মরণব্যাধি? বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘নিরাপদ খাদ্য’ শব্দটি এখন কেবল বইয়ের পাতায় বা সেমিনারের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের পাতে এখন পুষ্টির চেয়ে বিষই উঠছে বেশি।
মুনাফার লোভে লাশের মিছিল

একজন ব্যবসায়ী যখন দুধে ফরমালিন মেশান বা মশলায় কাপড়ের রং মেশান, তিনি কি একবারও ভাবেন এই খাবারটি তার নিজের সন্তানও খেতে পারে? এই যে নৈতিকতার চরম অবক্ষয়, এর পেছনে দায়ী মূলত দ্রুত বড়লোক হওয়ার অসুস্থ মানসিকতা। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ—ভেজালমুক্ত কোনো পণ্য খুঁজে পাওয়া এখন যেন খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কঠিন। আমাদের রান্নাঘরগুলো এখন এক একটা ছোটখাটো ল্যাবরেটরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিন আমরা অজান্তেই স্লো-পয়জনিংয়ের শিকার হচ্ছি।
আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?

বাংলাদেশে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ আছে, আছে মোবাইল কোর্টের অভিযানও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাতে কি পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে? জেল-জরিমানা হওয়ার পরও কিছুদিন পর আবার সেই একই চিত্র দেখা যায়। বড় বড় সিন্ডিকেট বা অসাধু আমদানিকারকরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শুধু চুনোপুঁটি ধরলে এই মহামারি থামানো সম্ভব নয়; শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।

আমাদের করণীয় কী?
কেবল প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। একজন ভোক্তা হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। অতি উজ্জ্বল বা কৃত্রিমভাবে পাকা ফল বর্জন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর সরকারকে বিএসটিআই বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস যেন কেউ না পায়, সরকারকে সেই ইস্পাতকঠিন বার্তা দিতে হবে। কারণ, বিষাক্ত খাদ্য খেয়ে একটি জাতি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।