ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান Logo পলিথিনমুক্ত বাংলাদেশ: আইনি কড়াকড়ি বনাম বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ Logo আরও ৫ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ Logo শিশুদের মনে রোজার প্রতি আগ্রহ তৈরির সহজ কৌশল Logo গণপরিবহনে তেলের রেশনিং তুলে দিচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী Logo ঈদে যানজট কমাতে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্ধ থাকবে: ডিএমপি কমিশনার Logo শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রম মন্ত্রীর Logo সকল ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর Logo কালকের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে ১১ দল: আযাদ Logo ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রম মন্ত্রীর

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশের সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস অবশ্যই ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় বেইলি রোডে শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শ্রম মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের নিকট প্রদান করা হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যে সব ব্যাংক লোন প্রদানে গড়িমসি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী অনুরোধ করে বলেন, যে সব শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি পলাতক মালিকদের ও তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ সব কারখানায় যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী যে কোনো সহযোগিতার জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি দৃঢ়ভাবে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমরা সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করে ফেলবো।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার।

সভায় বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু আছে ২ হাজার ১২৭টি কারখানা, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৬৪টি (৯২.৩৪%) কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১ হাজার ৫৩৫টি (৭২.১৭%) কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক না। যাদের সামর্থ রয়েছে, তারা বেতন পরিশোধ করবেন।

বিজিএমইএ’র সভাপতি বলেন, কিন্তু মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য অনেকেই শ্রমিকদেরকে উসকে দিচ্ছে।

সভায় বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪ কারখানার মধ্যে ৫১২টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে, তাই আমরা আশা করি যে কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হবে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপৎকালীন ফান্ড করতে পারলে, সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।

এ সময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ- মো. মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩) ও ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫)সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রম মন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০ ঘন্টা আগে

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশের সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস অবশ্যই ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় বেইলি রোডে শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শ্রম মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের নিকট প্রদান করা হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যে সব ব্যাংক লোন প্রদানে গড়িমসি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী অনুরোধ করে বলেন, যে সব শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি পলাতক মালিকদের ও তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ সব কারখানায় যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী যে কোনো সহযোগিতার জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি দৃঢ়ভাবে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমরা সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করে ফেলবো।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার।

সভায় বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু আছে ২ হাজার ১২৭টি কারখানা, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৬৪টি (৯২.৩৪%) কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১ হাজার ৫৩৫টি (৭২.১৭%) কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক না। যাদের সামর্থ রয়েছে, তারা বেতন পরিশোধ করবেন।

বিজিএমইএ’র সভাপতি বলেন, কিন্তু মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য অনেকেই শ্রমিকদেরকে উসকে দিচ্ছে।

সভায় বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪ কারখানার মধ্যে ৫১২টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে, তাই আমরা আশা করি যে কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হবে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপৎকালীন ফান্ড করতে পারলে, সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।

এ সময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ- মো. মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩) ও ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫)সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।