ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঈদের দিনেও ঝোড়ো বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান Logo পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা Logo ফরিদপুরে প্রজন্ম বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেন্দ্র করে আজও ২৬ ফ্লাইট বাতিল Logo ২১ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক Logo লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের Logo বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত Logo ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

বান্দরবানে সেনাবাহিনী-জেএসএস গোলাগুলি

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে হ্লামংনু মার্মা নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সাবমেশিনগানসহ (এসএমজি) বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরুং বাজার এলাকায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান-রুমা সড়কের সাইরন ম্রো পাড়ায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালালে এক সন্ত্রাসী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সদস্যরা গাড়ি আটকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। পরিস্থিতি টের পেয়ে জেএসএস সদস্যরা পালানোর চেষ্টাকালে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাদের ধাওয়া করে।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা প্রাথমিকভাবে একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গোলাগুলি শেষে সেনা টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হ্লামংনু মার্মাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামোনিশন (গুলি), ১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন, ৫ রাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুটি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতেও সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ জানান, “রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরুং বাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে জেএসএসের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে জেএসএসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বান্দরবানে সেনাবাহিনী-জেএসএস গোলাগুলি

আপডেট সময় ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে হ্লামংনু মার্মা নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সাবমেশিনগানসহ (এসএমজি) বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরুং বাজার এলাকায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান-রুমা সড়কের সাইরন ম্রো পাড়ায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালালে এক সন্ত্রাসী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সদস্যরা গাড়ি আটকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। পরিস্থিতি টের পেয়ে জেএসএস সদস্যরা পালানোর চেষ্টাকালে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাদের ধাওয়া করে।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা প্রাথমিকভাবে একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গোলাগুলি শেষে সেনা টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হ্লামংনু মার্মাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামোনিশন (গুলি), ১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন, ৫ রাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুটি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতেও সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ জানান, “রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরুং বাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে জেএসএসের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে জেএসএসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।”