ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ Logo নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিবো, বললেন ট্রাম্প Logo হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুত দেশে আনা হবে: আইজিপি Logo নৌ-পুলিশের প্রধানসহ ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর Logo পেট্রোল পাম্পে পুলিশ মোতায়েন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি Logo ফরিদপুরে ১১৬ তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত Logo ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার Logo ফরিদপুরে জরিমানাই যখন অবৈধ কাজের লাইসেন্স Logo বিশেষ অভিযানে ৫৩৮ বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১ Logo সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।
ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেট

ফরিদপুরে জরিমানাই যখন অবৈধ কাজের লাইসেন্স

ফরিদপুর জেলাজুড়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কাটার এক ভয়াবহ মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের মাঝেমধ্যে পরিচালিত অভিযান ও নামমাত্র জরিমানা এখন মাটিখেকো ব্যবসায়ীদের কাছে ‘অবৈধ কাজের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একবার জরিমানা দেওয়ার পরদিন থেকেই দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি কাটায় লিপ্ত হচ্ছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট।

​মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই পুনরায় শুরু হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ। ব্যবসায়ীরা জরিমানার অর্থকে কোনো দণ্ড নয়, বরং স্রেফ ‘ব্যবসায়িক খরচ’ (Business Cost) হিসেবে ধরে নিয়েছেন। গতকাল যেখানে ভেকু (এক্সেভেটর) মেশিনে তালা দেওয়া হয়েছে, আজ সেখানেই প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ‘নরম-গরম’ অবস্থানে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিন্ডিকেট কি আইনের চেয়েও শক্তিশালী?

​অনিয়ন্ত্রিত এই মাটি কাটার ফলে জেলাজুড়ে কেবল কৃষিজমিই কমছে না, তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগ:​ রাস্তার ধ্বংসযজ্ঞ: ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাটি পরিবহনের সময় উপচে পড়া ধুলোবালিতে পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে, ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ চর্মরোগ। মৃত্যুফাঁদ: যত্রতত্র গভীর গর্ত এবং রাস্তায় কাদা জমে থাকায় ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

​সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কি কেবল অর্থদণ্ডেই সীমাবদ্ধ? নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এই কার্যক্রম থামছে না? স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “জরিমানা তো ওরা হাসিমুখে দেয়, কারণ দুই ট্রাক মাটি বেচলেই জরিমানার টাকা উঠে আসে। আমাদের দরকার স্থায়ী সমাধান।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল জরিমানা যথেষ্ট নয়। মাটি কাটার সরঞ্জাম ও ট্রাক স্থায়ীভাবে জব্দসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কারাদণ্ড প্রদান করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই জেলার উর্বর ফসলি জমি কেবল বিশাল জলাশয়ে পরিণত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।

​জেলায় কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এখন রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে ফরিদপুরবাসী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেট

ফরিদপুরে জরিমানাই যখন অবৈধ কাজের লাইসেন্স

আপডেট সময় ০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর জেলাজুড়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কাটার এক ভয়াবহ মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের মাঝেমধ্যে পরিচালিত অভিযান ও নামমাত্র জরিমানা এখন মাটিখেকো ব্যবসায়ীদের কাছে ‘অবৈধ কাজের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একবার জরিমানা দেওয়ার পরদিন থেকেই দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি কাটায় লিপ্ত হচ্ছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট।

​মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই পুনরায় শুরু হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ। ব্যবসায়ীরা জরিমানার অর্থকে কোনো দণ্ড নয়, বরং স্রেফ ‘ব্যবসায়িক খরচ’ (Business Cost) হিসেবে ধরে নিয়েছেন। গতকাল যেখানে ভেকু (এক্সেভেটর) মেশিনে তালা দেওয়া হয়েছে, আজ সেখানেই প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ‘নরম-গরম’ অবস্থানে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিন্ডিকেট কি আইনের চেয়েও শক্তিশালী?

​অনিয়ন্ত্রিত এই মাটি কাটার ফলে জেলাজুড়ে কেবল কৃষিজমিই কমছে না, তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগ:​ রাস্তার ধ্বংসযজ্ঞ: ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাটি পরিবহনের সময় উপচে পড়া ধুলোবালিতে পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে, ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ চর্মরোগ। মৃত্যুফাঁদ: যত্রতত্র গভীর গর্ত এবং রাস্তায় কাদা জমে থাকায় ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

​সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কি কেবল অর্থদণ্ডেই সীমাবদ্ধ? নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এই কার্যক্রম থামছে না? স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “জরিমানা তো ওরা হাসিমুখে দেয়, কারণ দুই ট্রাক মাটি বেচলেই জরিমানার টাকা উঠে আসে। আমাদের দরকার স্থায়ী সমাধান।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল জরিমানা যথেষ্ট নয়। মাটি কাটার সরঞ্জাম ও ট্রাক স্থায়ীভাবে জব্দসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কারাদণ্ড প্রদান করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই জেলার উর্বর ফসলি জমি কেবল বিশাল জলাশয়ে পরিণত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।

​জেলায় কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এখন রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে ফরিদপুরবাসী।