ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সিইসি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১৩ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

সিইসি জানান, জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সিইসি বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসারে কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।

স্বচ্ছতাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই কমিশন স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সিইসি জানান, ভোটারদের অসুবিধা না করে এবং ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে স্বাগত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তারা পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন।

তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারবেন। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।’

তিনি জানান, ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহায়তায় প্রিসাইডিং অফিসাররা প্রার্থী বা তাদের অনুমোদিত এজেন্ট, স্বীকৃত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।

সিইসি আরও জানান, দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে।

প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোট দিতে পারবেন। সীমিত প্রস্তুতি ও প্রচারের সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের কার্যকর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে এবং এখন তা কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানো হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সিইসি

আপডেট সময় ১৩ ঘন্টা আগে

অনলাইন ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

সিইসি জানান, জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সিইসি বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসারে কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।

স্বচ্ছতাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই কমিশন স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সিইসি জানান, ভোটারদের অসুবিধা না করে এবং ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে স্বাগত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তারা পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন।

তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারবেন। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।’

তিনি জানান, ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহায়তায় প্রিসাইডিং অফিসাররা প্রার্থী বা তাদের অনুমোদিত এজেন্ট, স্বীকৃত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।

সিইসি আরও জানান, দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করেছে।

প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোট দিতে পারবেন। সীমিত প্রস্তুতি ও প্রচারের সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের কার্যকর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে এবং এখন তা কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানো হচ্ছে।