ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জুয়েল মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কোতোয়ালি থানা এলাকার গোয়ালচামট বিহারী কলোনির মোল্লাবাড়ি সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মোল্লা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত মনির উদ্দিন আনসারীর ছেলে। এই ঘটনায় তার ভাই সোহেলও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে জুয়েল মোল্লাদের বাড়ির সামনে রোদে কাপড় শুকানোর জন্য একটি রশি টানানো হয়। এতে বাধা দেন পার্শ্ববর্তী বাড়িওয়ালা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের ভাড়াটিয়া সাহা নেওয়াজ (২৩) ও সিফাত (২০)। বিষয়টি নিয়ে বিবাদী সফরাজের স্ত্রী মনি বেগমের সঙ্গে জুয়েল মোল্লাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় মনি বেগমের ছেলেসহ আরও ৮–১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জুয়েল মোল্লা ও তার ভাই সোহেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুই ভাই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মায়ের কোলেই এক সন্তানের মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জুয়েল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মনি বেগম (৪৫) ও সিফাত (২০)-কে গ্রেপ্তার করেছে।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায় “নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এই ঘটনায় মামলা দায়ের ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই’: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
শফিউল মঞ্জুর ফরিদ 








