ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ৮০ বছর বয়সে টনি অ্যাওয়ার্ড জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন জন লিথগো Logo ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জেলেদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার Logo দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে জয় পেয়েছে টাইগাররা Logo জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে Logo সিলেট টিটিসিতে ২০ বছর ধরে কর্মরত দুনীর্তিবাজ ড্রাইভার বিল্লালকে বদলীর দাবিতে প্রবাসী মন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান Logo তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হবে এবং ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী Logo মুগদা থানা পুলিশের অভিযানে নানা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে আটক Logo মাঠে ডেনমার্কের এক তারকা খেলোয়াড় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয় Logo ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে Logo শুল্কহার বেশি হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা
নোটিশ :
বাংলা 21 সংবাদ পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে আপনিও আপনার মতামত, পরামর্শ অথবা অভিযোগ আমাদের জানাতে পারেন।

জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প জাতীয় বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। এর পরেই গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ। একই সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতেও বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটটি উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। দলটির পক্ষ থেকে এটিকে জনমুখী ও বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। দলটির বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঋণের দায় সামাল দেওয়া বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন জোরদারে কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছে দলটি। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ছায়া বাজেট উপস্থাপন অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট দিচ্ছি না, এই বাজেট দেশের মানুষের জন্য।” তিনি মনে করেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এমন বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ফিসকাল ইয়ার ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা উচিত।” তার ভাষ্য, অর্থবছরের শেষ দিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায় না।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর এই ছায়া বাজেট মূল জাতীয় বাজেটের বিকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে এসেছে। এতে প্রশাসনিক ব্যয়, শিক্ষা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৮০ বছর বয়সে টনি অ্যাওয়ার্ড জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন জন লিথগো

জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প জাতীয় বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। এর পরেই গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ। একই সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতেও বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটটি উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। দলটির পক্ষ থেকে এটিকে জনমুখী ও বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। দলটির বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঋণের দায় সামাল দেওয়া বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন জোরদারে কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছে দলটি। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ছায়া বাজেট উপস্থাপন অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট দিচ্ছি না, এই বাজেট দেশের মানুষের জন্য।” তিনি মনে করেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এমন বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ফিসকাল ইয়ার ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা উচিত।” তার ভাষ্য, অর্থবছরের শেষ দিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায় না।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর এই ছায়া বাজেট মূল জাতীয় বাজেটের বিকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে এসেছে। এতে প্রশাসনিক ব্যয়, শিক্ষা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।